শেরপুরে এক কেজি চালে এক মণ টমেটো!

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : ভালো মুনাফার আশায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের সবজি চাষী রফিকুল ইসলাম তার দুই বিঘা জমির পুরোটাই টমেটোর চাষ করেছিলেন। একইগ্রামের শাহীন আলম ও মোফাজ্জল হোসেনও আধা বিঘা করে তাদের জমিতে টমেটো চাষ করেন। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে এসে টমেটোর দাম একেবারে পড়ে গেছে।

এমনকি এক কেজি চালের দামে এক মণ টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। তাই ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষেত থেকে টমেটো তুলছেন না। এতে করে তাদের উৎপাদিত কষ্টের ফসল টমেটো জমিতেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের মাথায় হাত। চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। অথচ এ পর্যন্ত মাত্র ৯০হাজার টাকা টমেটো বিক্রি করেছেন। ভেবেছিলাম টমেটো বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কিনবো। কিন্তু লাভ দূরের কথা এখনও ৬০হাজার টাকা লোকসান রয়েছে তার।

চাষী শাহীন আলম ও মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তাদের আশা ছিল ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হবে। অথচ ৩০হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব চাষিরা বলেন, গতকাল শনিবার (০৩মার্চ) স্থানীয় হাটবাজারে প্রতি মণ টমেটো ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জমি থেকে টমেটো তুলতে শ্রমিক ও পণ্য পরিবহন করতে চাষীদের খরচ হচ্ছে ২০টাকা। ফলে এক মণ টমেটোতে সবজি চাষীরা পাচ্ছেন মাত্র ৩০থেকে ৪০টাকা। এক কেজি মোটা চালের দামও তাই। মৌসুমের শুরুর দিকে টমেটোর বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি ফুটলেও শেষের দিকে এসে তাদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১হাজার ৬৮০হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৬০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ করা হয়। এছাড়া এই উপজেলায় বছরজুড়েই চলে সবজি চাষ। বিশেষ করে গাড়ীদহ ও খামারকান্দি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের কৃষকের প্রধান আবাদযোগ্য ফসল নানা জাতের সবজি। এরমধ্যে ফুলবাড়ি, চকপাথালিয়া, কালসিমাটি, গাড়িদহ, রামেশ্বরপুর, শিবপুর, দড়িপাড়া, বাংড়া, বোংগা, চন্ডিযান, দামুয়া, রানীনগর, জয়নগর, মহিপুর, রামনগর, কানুপুর উল্লেখযোগ্য।

সবজি চাষী আব্দুল হামিদ জানান, এসব গ্রামের উৎপাদিত রকমারি সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, উত্তরাঞ্চল, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। সবজিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফুলবাড়ি মাঠে প্রতিদিন বিশাল পাইকারি বাজার বসে।

স্থানীয়রাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে এখান থেকে সবজি কিনে থাকেন। বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় হাজার মণ বিভিন্ন জাতের সবজি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শারমীন সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়।

এছাড়া টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি। তাই মৌসুমের শুরুর দিকে টমেটোর ভাল দাম পেলেও এখন বাজারে একেবাড়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে। আর শ্রমিক খরচ বেশি হওয়ার কারণে চাষীরা জমি থেকে টমেটো তুলছেন না বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech