মহাদেবপুরে কমেছে পাট চাষ

  

পিএনএস, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুরে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। সোনালী আঁশ হিসেবে খ্যাত পাট চাষ এখন অনিহার পথে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমি অকৃষিতে পরিণত হওয়া, স্বল্প সময়ে জমিতে অধিক ফসল ফলানোর প্রবণতা, পাট পচনের পানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পাট চাষ যেন এখন কৃষকের অবহেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই পাট চাষের জমি কিছু কিছু করে কমছে। এবার ভরা মৌসুমেও পাট মিলেনি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষী পাট চাষ বন্ধ করে দিয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরই পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা কমছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩’শ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষ হয়েছে ১’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩’শ ৫০ হেক্টর। কৃষি বিভাগের দেওয়া হিসেব মতে প্রতি বছরই পাট চাষের জমি কমছে।

উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের চাষি আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আগে আমি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতাম। এখন ১ বিঘা জমিতে চাষ করি। আগে শুধু পাট চাষ করেই সংসার খরচ চালাতে পারতাম, কিন্তু এখন পাট চাষ করে খরচের টাকাও উঠে না। বর্তমানে আমাদের এখানে দু’এক জন ছাড়া আর কেউ পাট চাষ করে না। এখন সবাই পাট চাষের বদলে ধান চাষ করে। উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের চাষি রায়হান জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘাতে পাট হয় ৯-১০ মণ। প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় এক হাজার টাকা থেকে ১২’শ টাকা পর্যন্ত। এ দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে না। গত বছর তিনি ২৫ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এবার কমিয়ে ৫ কাঠায় চাষ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম মফিদুল ইসলাম জানান, উপজেলায় পাট চাষ করার মত জমির পরিমাণ এমনিতেই কম। কৃষকরা যে ফসলে লাভ পান, সে ফসল আবাদে ঝোঁকেন। বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব মোড়কসহ পাটের বহুবিধ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়ায় পাটের উৎপাদন ও বাজারদর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষিদের গঠনমূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech