হাসি নেই কৃষকের মুখে

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বর্ষালি ধান জিরাশাইল ও পারিজাত ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ধানের ফলন কম ও ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে বিঘাপ্রতি দুই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এতে করে কৃষকদের মাঝা ভাঙার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে তাঁদের চোখেমুখে হাসির পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে হতাশা আর বিশাদের কালো ছায়া। এ অবস্থায় আগামিতে বর্ষালি ধান চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন তারা। কিন্তু এরপরও বসে নেই এখানকার কৃষকরা। একদিকে চলছে ধান কাটা-মাড়াই, অন্যদিকে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ইতোমধ্যেই অনেক এলাকার কৃষকরা জমিতে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজ শেষ করেছেন। তবে রোপা আউস মৌসুমের জিরাশাইল ও পারিজাত ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে আরও ৭-৮দিন সময় লাগবে। একইসঙ্গে চলতি রোপা আমন মৌসুমের ধান লাগানোর কাজও সমাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বরেন্দ্রখ্যাত উপজেলার বিশালপুর, কুসুম্বী, মির্জাপুর, গাড়িদহ, ভবানীপুর, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত জিরাশাইল ও পারিজাত ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রায় দেড় যুগের অধিককাল ধরে এখানকার কৃষকরা কম-বেশি এ ধান চাষ করে আসছেন। চলতি বছরও এই উপজেলার কৃষকরা প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে জিরাশাইল ও পারিজাত ধান চাষ করেন। তবে এবার ধানের ফলন বিপর্যয় ও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে জানান।

উপজেলার একাধিক গ্রামে গেলে কথা হয় ঘোলাগাড়ী গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান, সাধুবাড়ীর গোলাম রব্বানী, মোজাম্মেল হক, শহিদুল ইসলাম সদের, কহিতকুল গ্রামের মকবুল হোসেন, পালাশন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, গেল বছর বর্ষালি আবাদে বিঘা প্রতি দেশীয় জাতের ধান ১৩ থেকে ১৫ মণ এবং হাইব্রিড ১৭ থেকে ১৯মণ হারে ফলন হলেও এবারের চিত্র সম্পুর্ণ উল্টো। বিঘাপ্রতি ফলন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮থেকে ১২ মণ হারে। এছাড়া গেল বছর ধানের দাম বেশি থাকলেও এবার কম। তারা আরও বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা মাড়াই পর্যন্ত ৭ থেকে ৯হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে। আর বর্গাচাষির খরচ হয়েছে সাড়ে ৯ থেকে ১১হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ সেই জমি থেকে সর্বোচ্চ ৮থেকে ১২মণ হারে ধানের ফলন হয়েছে।

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সেই ধান ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ ও ধানের ফলন বিপর্যয়ের কারণে বিঘাপ্রতি তাদের দুই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তারা জানান। রমজান আলী নামের এক কৃষক জানান, তিনি এবার ৫বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেন। ধানের ফলন গড় প্রায় ৯ থেকে ১০মণ হারে হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৬০০টাকায় ধান বিক্রি করলে প্রায় তিন হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, আউস মৌসুমের ধানে এমনিতেই ফলন একটু কম হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর একইজাতের ধান চাষ করলে ফলন কম হতে পারে। তাই বাজারে নতুন নতুন ভাল দেশীয় জাতের বীজ পাওয়া যাচ্ছে। সেসব ধান চাষ করলে বিঘায় ১৫-১৮মণ হারে ফলন পাওয়া সম্ভব হবে। তবে ধানের ফলন বিপর্যয় ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা এবার লোকসানের মুখে পড়বেন বলে স্বীকার করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech