অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মরিচের দাম কমায় বিপাকে চাষিরা

  

পিএনএস ডেস্ক : রাজশাহীতে হঠাৎ করে মরিচের দাম কমেছে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। এতে হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচ না উঠায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা। এতদিন ক্রেতাদের অস্থিরতা থাকলেও বর্তমানে এই অস্থিরতা ও ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি করে চাষিরা পাচ্ছে ৫-১০টাকা।

এবারে প্রথম থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে মরিচের আবাদ। দামের মাঝখানে কিছুটা দাম ভাল পাওয়ায় চাষিরা আশায় বুক বেধে ছিল। কিন্তু বিধিবাম। চারা লাগানোর সময়ে ব্যাপক বৃষ্টি, ক্ষেতে অজানা মোড়ক, প্রলম্বিত খরা এবং বর্তমানে দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ উঠা নিয়ে চাষিদের শংকা দেখা দিয়েছে। আবার পাইকারি বাজারে ক্রয়কৃত মরিচ খুচরা বাজারে দ্বিগুন তিনগুন দামে বিক্রি হচ্ছে।

গতবার দাম ও উৎপাদন ভাল হওয়ায় এবারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত মৌসুমের অর্জনের চেয়ে বেশী জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এবারে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর। গত মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৭ হেক্টর। শিলাবৃষ্টি, প্রলম্বিত খরা, মোড়ক ও অপরিমিত বৃষ্টিতে মরিচ উৎপাদন ব্যাহত হলেও ভাটা পড়েছে দামে। অথচ উৎপাদন কম হলে চাহিদা মতে দাম বেশী হয়। তবে এবারে কৃষকের ধারনা একেবারে উল্টো।

মাসখানেক আগেও মরিচ ক্ষেতের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করেছেন চাষিরা। দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা যত্ন নিচ্ছেন না ক্ষেতের। মোহনপুর উপজেলার কৃষিশ্রমিক শফিকুল ইসলাম জানান, দাম কমে যাওয়ায় মরিচ উঠানোতে ক্ষেতের মালিক আসেননি। ওই ১০ জন নারী শ্রমিক মরিচ তুলছিলেন।

জেলার পবা উপজেলার একাধিক মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর কাঁচা মরিচের দাম ভাল থাকায় চাষীরা এবার ব্যাপক জমিতে মরিচ রোপন করেছেন। গতবার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মরিচের দাম ভাল ছিল। শুরুতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে একপর্যায়ে তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ওঠে। এরপর উঠে ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। সেবার দামের পাশাপাশি এবার ফলনও ভালো হয়। এবারে মৌসুমের শুরুতেই হোচট খেয়েছে চাষিরা। বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আশায় বুক বেধেছিল চাষিরা। দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা দুঃস্বপ্ন দেখছেন। অনেকে ক্ষেতেও যাচ্ছেন না।

গত বুধবার রাজশাহীর সিটি বাইপাস খড়খড়ি পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম ১৮-২৫ টাকা। যা গতকাল পর্যন্ত ছিল। অথচ প্রতি কেজি মরিচ ক্ষেত থেকে উঠাতে খরচ হচ্ছে ১০-১২ টাকা। প্রতি কেজির ভাড়া ২ টাকা এবং খাজনা (টোল) ১ টাকা। এতে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি করে ক্ষেত মালিকের থাকছে ৫-১০ টাকা।

পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা জানান, কৃষি বিভাগ দেখে থাকে আবাদের দিকটা। দামের বিষয়টি দেখভাল করে থাকে বাজার মনিটরিং কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দেব দুলাল ঢালীও একই কথা বলেন। তবে তিনি বলেন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই কৃষি আবাদ হয়ে থাকে। ঝুকির মধ্যে থেকেই চাষিরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দাম না পেলে চাষের আগ্রহ থাকবে না। দামের বিষয়টি বাজার মনিটরিং সংশ্লিষ্টরা দেখভাল করে থাকেন। মরিচের দাম বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech