সোনার ফসল উৎপাদনে কৃষিবীমা কার্যকর সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আমাদের কৃষি ও কৃষক অনেকটা অনাদরে থেকে যাচ্ছে। কথার কথা ছাড়া এ দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি তেমন একটা মনোযোগী নন দাযিত্বশীলরা। এ দুটি খাতকে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়া হলে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যেত।

অবহেলা-অনাদরে থাকার পরও কৃষকরা তাদের প্রয়োজনে আবাদ অব্যাহত রাখেন। তাদের এ নির্মোহ অবদানে সর্বস্তরের মানুষের মুখে সহজে খাবার চলে আসে। প্রচণ্ড খরতাপ, প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রপাতের আকাশ ফাটা বিকট শব্দ উপেক্ষা করে উদয়-অস্ত তারা মাঠে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন কৃষকরা।

অতি খরা, অতিবৃষ্টি তথা ঢল, ঝড়, পোকা তাদের উদপাদিত ফসলের ক্ষতি করলেও তারা দমে যান না। ধার-দেনা করে জানা এ কৃষি কাজটাই তারা চালিয়ে যান। ভোরের আকাশে সূর্য উদয় হওয়ার আগেই তারা পান্তা খেয়ে মাঠে চলে যান আর আসেন রাতের অন্ধকার নেমে এলে।

এত পরিশ্রমের পর তারা যে ফসল উৎপাদন করেন, সে ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হন। তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায় মধ্যসত্বভোগীরা।মৌসুমে তাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে এসব ফসল সংগ্রহ করে তারা অধিক মূল্যে বিক্রি করে। এতে কৃষক ও ক্রেতা, উভয়ই ঠকেন।

বাজারে ইদানীং আদা, রসুন ও পিঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে কৃষক তার উৎপাদিত এসব ফসলের দাম নামকাওয়াস্তে পেয়েছেন। ন্যায্য মূল্য অথবা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে খরচ তুলতে না পেরে কৃষকের চোখের পানির নাকের পানিতে বুক ভেসেছে।

যেসব পণ্য কয়েকগুণ বেশি দামে এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সেসব পণ্য চিহ্নিতপূর্বক বেশি উৎপাদিত এলাকায় মৌসুমে কত দাম ছিল, সেটা নিরূপণ করে ওইসব পণ্যের বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ের দাবি। সে দাবি পূরণে দায়িত্বশীলদের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

কৃষি ও কৃষকের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া অতীব প্রয়োজন। অথচ এ প্রয়োজনীয় কাজটা অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। মাঝখানে অবহেলিত কৃষকদের পুঁজি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে মধ্যসত্বভোগীসহ সিন্ডিকেট। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভে বিক্রি করে তাদের পোয়াবারো।

যেসব এলাকায় যে ফসল বেশি হয়, সেসব এলাকায় ওই ধরনের আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি। এতে সৌসুমের সময় কৃষক তার উৎপাদিত ফসল মজুদ রাখতে সক্ষম হবেন এবং নিজে বাজার দর যাচাই করে পণ্য বিক্রি করে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন।

কৃষকের বৃহৎ স্বার্থে সহজ শর্তে ঋণ, সার, বীজ, কৃষি সরঞ্জাম ও উপকরণ বিনা মূল্যে দেওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে খরচ না ওঠায় তারা যখন অতিষ্ঠ, তখন তাদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার দরকার। আরো বেশি দরকা ফসলের বীমাকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

অতি বৃষ্টি-খরা, শিলা, ঝড়, বন্যা, পোকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাভাবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো কৃষকের ফসলহানি ঘটে। এসব ফসলহানির সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ফসলের বীমা সময়োপযোগী। কৃষকের জন্য কৃষিবীমার এ কাজটা যত দ্রুত সহজ করা সম্ভব হবে, বাংলার কৃষক সফলভাবে সোনার ফসল উৎপাদনে ততটাই সক্ষম হবে।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech