এক খালের জন্যই দেড় লাখ কৃষকের মুখে হাসি

  



পিএনএস ডেস্ক: এক খাল খনন প্রকল্পেই ভাগ্যের চাকা পাল্টে গেছে নওগাঁ জেলার দেড় লাখেরও বেশি কৃষকের। আগে যেখানে জলাবদ্ধতার কারণে জমি আবাদ করতে না পেরে অর্থনৈতিক মন্দায় ভূগতেন ওই অঞ্চলের কৃষকরা সেখানে এখন গোলা ভরা ধানপ্রাপ্তিতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন তারা।

নওগাঁ জেলায় ভূ-পরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের কারণেই ভাগ্যের চাকা চার বছরেই পাল্টে গেছে ওই জেলার কৃষকদের।

এ প্রকল্পের ফলে আবাদের আওতায় এসেছে ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি পতিত আবাদি জমি। বেড়েছে ধান উৎপাদন। সুফল ভোগ করছেন নওগাঁর ৬টি উপজেলার প্রায় দেড় লাখের বেশি কৃষক। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর চারেক আগেও জলাবদ্ধতার কারণে হেক্টরের পর হেক্টর জমি চাষ করতে পারেননি কৃষক। ঋণ করে ফসল লাগিয়েছেন তবে অধিকাংশ সময়ে সেই ফসল ঘরে ওঠেনি। চার বছরের ব্যবধানে পাল্টে গেছে সেই চিত্র।

এই এলাকার কৃষকরা বলছেন, কিছু জমিতে ফসল আবাদ করা যেত তবে উত্তোলনের সময় বন্যায় ডুবে যেত। অন্যদিকে আরও অনেক জমিতে সারা বছর জলাবদ্ধতা থাকার ফলে আবাদ করা যেত না। এতে অর্থনৈতিকভাবে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো এলাকার মানুষদের।

বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) উদ্যোগে এক খাল খনন প্রকল্পই বদলে দিয়েছে এই চিত্র। ‘নওগাঁ জেলার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে।

বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নওগাঁ সদর, মান্দা, রাণীনগর, আত্রাই, পত্নীতলা, ধামইরহাট এই ৬ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রায় ৯৩ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক মাটি থেকে ১৭-১৮ ফিট গভীর খাল (কেনেল) নির্মাণ করা হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজ ও ক্রস ড্যামসহ ১৩টি নির্মিত হয়েছে।

বিলমনুসুর, বারমাসিয়া, কৃষ্ণপুর ও হাঁসাইগাড়ী খালে তিন হাজার বৃক্ষরোপণ, সুইচ গেট থেকে পলাশবাড়ী অভিমুখে সাত হাজার, নলামারা খালে ২০০০, পত্নীতলায় টেপাবিল জলাশয়ে ১৮ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্পটি শেষ হয়। এরপর থেকে বছর প্রতি ধান, রবি শষ্যসহ ৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। যদিও এর আগে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কিছু এলাকায় পানি না থাকার কারণে এই এলাকাগুলো পতিত থাকত।

নওগাঁ সদর উপজেলার মাগনা কোমরকোঠা এলাকার আফজাল শাহ নামের এক কৃষক বলেন, বন্যার পানি জমে থাকত। আগে ঘরবাড়ি ডুবে যেত। ধান লাগাতে ২ থেকে ৩ মাস দেরি হয়ে যেত, আর ধান কাটার আগেই বন্যা চলে আসত। অনেক ধান উঠানো যায়নি। তবে এখন জমিনে পানি জমে থাকে না অন্যদিকে ফসল বন্যার পানিতে ডুবে না।

মান্দা উপজেলার গড়িয়াচান এলাকার আব্দুস সাত্তার নামের এক কৃষক বলেন, বোরো আবাদ নিশ্চিত করেছে এই কাজটি। জমিগুলো চাষ উপযোগী হয়েছে। প্রতি হেক্টরে যেখানে আগে ধান উৎপাদন হতো ৬০ থেকে ৭০ মণ সেখানে এখন ১০০ থেকে ১১০ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও রাজশাহী বিএমডিএ -এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ টি এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৪ হাজার হেক্টর এক ফসলি জমিতে বছরে ৩টি ফসল নিশ্চিত করার লক্ষে প্রকল্পটি শুরু করা হয়। ওই এলাকায় পূর্বে আমন, আউশ, বোরো এবং রবি শষ্য উৎপাদন হতো না। বর্তমানে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও তথ্য দেন, পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় আসায় উপকার ভোগ করছেন প্রায় ৮০ হাজার মহিলা ও ৮৫ হাজার পুরুষ। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বছরে প্রায় ২৩০ কোটি টাকার ফসল অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে এই এলাকা থেকে। শুধু ধান উৎপাদন নয়, সবজিচাষ, হাঁসপালনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই উদ্যোগ।

পিএনএস/ হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech