চরম বিপাকে আলু চাষিরা

  

পিএনএস ডেস্ক :ঠাণ্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশায় কারণে আগাম জাতের আলুর পচন ও গাছ মরায় দিনাজপুরের বেশিরভাগ আলু চাষি পড়েছে চরম বিপাকে।
আগাম জাতের আলুর ফলন কম হওয়ায় আলু চাষে খরচ উঠা নিয়ে দুশ্চিতায় পড়েছেন দিনাজপুরের আলু চাষিরা। বর্তমান বাজারে আলুর দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে আলু চাষিরা ।

দিনাজপুরের জমি আলু চাষের জন্য উর্বর হওয়ায় প্রতিবছর এই জেলায় আগাম ও নমলা জাতের আলুর চাষ করে অনেকেই লাভবান হন। কিন্তু এ বছর নতুন আলুর দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় ক্ষতি না হলেও তেমন বেশি লাভবান হতে পারছেনা আলু চাষিরা।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৯০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪ হেক্টর জমির আলু। তবে আগাম জাতের আলু কত হেক্টর জমিতে লাগানো হয়েছে সেই তথ্য দিতে পারেনি কৃষি অধিদফতর।

আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন দিনাজপুর বিরলের মাঝাডাঙ্গার গনেশ চন্দ্র রায় জানান, গত বছর ৩৩ শত জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করে ২২ বস্তা আলু পেয়েছিলাম। এবার সেই জমিতেই আগাম জাতের আলুর চাষ করে এবার পাওয়া গেছে ১৩ বস্তা আলু ।

একই এলাকার গোলাম মোস্তাফ বলেন, এখন এক মণ আলু বাজার মূল্য পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ৮ শত টাকায়। এই বাজার থাকলে একজন আলু চাষি খুব বেশি লাভবান হবে না। সামান্য কিছু লাভ হবে। তিনি আরো বলেন এ বছর তিন বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকারও বেশি। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে আলু গাছ মরে যাচ্ছে এবং আলুর পচন ধরতে শুরু করেছে ।

দিনাজপুর সদরের দক্ষিণ কোতোয়ালির কসবা গ্রামের আলু চাষি মফিজুল ইসলাম জানান, আমি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। গতবার আগাম আলুর দাম বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু এবার বাজারে পুরোনো আলু থাকায় নতুন আলু প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি আলু ফলাতেই খরচ পড়ে ১৫ টাকার বেশি। আগাম আলুর ফলন কম হয় আবার দামও যদি কম হয় তাহলে লোকসান হবেই।

খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউপির কৃষক আবদুস সামাদ দেড় বিঘা, রফিকুল ইসলাম পাঁচ বিঘা ও শহিদুল ইসলাম তিন বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। বাজার মন্দার কারণে তারাও হতাশ।

তারা বলেন, এবার বাজার এতটাই খারাপ যে, গতবার যেই আলু এই সময় ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি, সেই আলু বর্তমান সময়ে ১৫ টাকা বা তারও কম দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্য বছর এ সময়ে বাইরের ব্যবসায়ীরা এলাকায় এসে আলু নিয়ে যেতেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু এবার বাজার মন্দার কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা আসছেন না। তাই এলাকার ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। ওই দামে আলুর উৎপাদন খরচও উঠছে না।



দিনাজপুরের আগাম আলু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। কিন্তু এবার শীত আর আবহাওয়া খারাপ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরাও আসছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে ব্যবসায়ী।

বাহাদুর বাজারের আলু ব্যবসায়ী জাকির হেহাসেন বলেন, প্রতি বছর নতুন আলু ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাই। ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা থাকে কত ট্রাক আলু নিয়ে যাব। কিন্তু এবার তেমন ব্যবসায়ী পাইনি। তাই বাইরে খুব একটা আলুও নিয়ে যেতে পারিনি।

দিনাজপুর বাহাদুর কাঁচা বাজারের আলু চাষি রেজাউল করিম বাবলু জানান, আজ সাড়ে ৭ শ কেজি আলু বাহাদুর বাজারে নিয়ে আসছি । আলু ক্রয় আর ভ্যান ভাড়াসহ এক কেজি আলুর দাম পড়েছে ২৩ টাকা কেজি । নিজেও ২৩ টা কেজি ধরে অন্য পাইকারের নিকট বিক্রি করে করেছি। এতে শুধু আলুর ব্যবসায় টাকা বদল হল ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, কৃষকরা প্রথমে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছেন। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু ওঠায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, এ কারণে দাম কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া বাজারে পুরোনো আলু রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বছর কৃষকরা আলুর বীজ বেশি দরে কেনার জন্য খরচ বেশি হয়েছে। তবে আলুর দামটা আরেকটু বেশি থাকলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ত না।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech