নওগাঁয় লেবু চাষে বদলে গেছে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা!

  

পিএনএস ডেস্ক: নওগাঁর বদলগাছীতে দিনে দিনে লেবু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।। অধিক লাভজনক এই লেবু চাষ করে উপজেলার শত শত কৃষকের ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ২৫০-৩০০ বিঘা জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। লেবু চাষ খুবই লাভজনক। লেবুর পাশাপাশি মাল্টাও চাষ হচ্ছে।

লেবু চাষিদের কাছে লেবু এখন অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। লেবু যেন কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের ফসল। অন্যান্য বছরের তুলনায় লেবু চাষিরা এবার লাভবান হচ্ছেন তিনগুণ বেশি।

চলতি মৌসুমে করোনাভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। মূল্য বেড়ে যাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। একটি লেবু সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সর্বনিম্ন ৬ থেকে ৭ টাকায় একটি লেবু বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সব এলাকায় ২-৪ জন কৃষক লেবু চাষ শুরু করলেও ব্যাপকভাবে লেবু চাষ শুরু হয়েছে আধাইপুর ইউপিতে। এ ইউপির আধাইপুর, পারিচা ব্যাসপুর, বৈকুণ্ঠপুর, কার্তিকাহার, পাথরাবাড়ী গ্রাম এলাকায় কৃষকদের এখন প্রধান ফসল হচ্ছে লেবু।

আধাইপুর গ্রামের লেবু চাষি বিল্লু হোসেন বলেন, ১৬ কাঠা জমিতে লেবু চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত এ বছর দেড় লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছি। আশা করছি আরো দেড় থেকে দুই লাখ টাকার লেবু বিক্রি হবে।

পারিচা গ্রামের লেবু চাষি এনামুল জানান, তার নিজস্ব জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ১০ কাঠা জমিতে লেবু চাষ শুরু করেন প্রায় ৫ বছর আগে। এখন তার কোনো অভাব নেই। একদিনে ৯টি গাছ থেকে গড়ে ৮ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। ১০ কাঠা জমি থেকে ১৫ দিন পরপর ৩ দিন লেবু তোলেন। বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। চলতি বছর প্রায় ১ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। বিক্রি হবে সারা বছর একইভাবে।

লেবুচাষি ফিরোজ জানান, সে ৪ কাঠা জমিতে লেবু চাষ করে বিক্রি করেছেন ৭ হাজার ৬০০ টাকা। পরে আছে এখনো সারা বছর। সুরুজ চাষ করেছেন ১০ কাঠা,আইনুল চাষ করেছে ১০ কাঠা।

লেবু চাষিরা জানান, যারা ২ থেকে ৩ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছেন তারা প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেন। প্রথম দিকে ১০০ লেবু বিক্রি হয়েছে ৬০০-৭০০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়। এক বিঘা জমিতে লেবু থাকলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার লেবু তুলতে হবে। যারা ২-৪ কাঠা লেবু চাষ করছেন সংসারে তাদের কোনো অভাব নেই। যারা আরো বেশি চাষ করছেন বদলে যাচ্ছে তাদের ভাগ্যের চাকা। অধিক লাভজনক হওয়ায় লেবু চাষ করে খুশি এলাকার কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, লেবু চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। লেবু চাষের পাশাপাশি লেবু জাতীয় ফসল যেমন মাল্টা চাষের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেসঙ্গে মসলা চাষ করার জন্যও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন