বিপাকে ঝালকাঠির প্রাচীন ভাসমান হাট-বাজার

  

পিএনএস, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : করোনা মহামারীতে সংকটে পড়েছে ঝালকাঠির ভাসমান হাট-বাজার। পাওয়া যাচ্ছেনা কৃষি পণ্যের পাইকার। নিজেদের উৎপাতি সবজি আর ফলমূল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঝালকাঠির অসংখ্য কৃষক।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক কৃষি উদ্যোক্তা ভবেন্দ্র নাথ হালদার জানান, পেয়ারা আর আমড়া ছাড়াও ঝালকাঠির ভাসমান হাট-বাজারে স্থানীয় কৃষকরা ১২ মাস নানা কৃষিপণ্য বিক্রি করে থাকেন। রাজধানীসহ দেশের দূর-দূরান্তের পাইকাররা এসে এখান থেকে ফলমূল আর শাক-সবজি পাইকারী কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন।

লেবু, পেঁপেঁ, পানিকচু, নারকেল-সুপারী ও কাঁঠালসহ নানা ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে অসংখ্য পরিবারের জীবিকা চলে এ অঞ্চলের কৃষকদের। কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবে ভাসমান হাট-বাজারে নেই কৃষিপণ্যা কেনার পাইকারদের আনাগোনা। দু’চারজন যা পাওয়া যাচেচ্ছ তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা ন্যায্যমূল্য। আর এ অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ঝালকাঠির ভাসমান হাট-বাজার কেন্দ্রিক অসংখ্য কৃষক।

এদিকে গত বছর ঝালকাঠির এই ভাসমান হাট-বাজার পরিদর্শনে এসেছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। ই-কমার্সের আওতায় সারা দেশে এই ভাসমান বাজারের কৃষিপণ্য ছড়িয়ে এখানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করার ঘোষনা দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ। সম্প্রতি ঝালকাঠির ভীমরুলি বাজারে চালু করা হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন। করোনার এই সংকটকালে স্থানীয়রা আশার আলো দেখেছেন ফ্রি ওয়াইফাই জোনের মাধ্যমে ই-কমার্স নিয়ে।

স্থানীয় চাষিরা বলেন, ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করায় আমার আশার আলো দেখছি। এখানকার কৃষি পণ্য আমারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার করতে পারব। আর সেটা দেখে দেশের যেকোন প্রান্তের পাইকার বা ক্রেতার কিনতে চাইলে এখান থেকেই আমার পাঠিয়ে দিতে পারব। এতে করোনা সংক্রমণ রোধে ক্রেতাকে হাটে না এসেই কেনাকারার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো: জোহর আলীর সাথে আলাপকালে বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য ঝালকাঠির ভীমরুলি হাটে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করার আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর ঘোষনা ছিল। সম্প্রতি এই ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা হয়েছে।আশা করছি স্থানীয় কৃষকরা এই করোনা মহামারীতে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য প্রদর্শন করে সারাদেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক বাজার ধরতে পারবেন। আর এতে ন্যায্যমূল্য পাওয়াও সহজ হবে, বলেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই স্থানীয় খালগুলোতে ভাসমান হাট-বাজার বসিয়ে আসছে। এ ইউনিয়নের প্রধান হাট-বাজার বসে ভীমরুলী গ্রামের ভীমরুলি খালে। পেয়ারা আর আমড়া ছাড়াও ভাসমান হাট-বাজারে বছর জুড়ে নানা ফলমূল আর শাক-সবজি বিক্রি করে ১৫ গ্রামের ৫ হাজার পরিবারের সংসার চলে।

পিএনএস/এসআইআর




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন