শার্শায় দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট, আনন্দে চাষিরা

  

পিএনএস, বেনাপোল প্রতিনিধি : আধুনিকতার এ যুগে বিভিন্ন উৎসব আনুষ্ঠানিকতায় ও ইংরেজি বর্ষবরণে ফুলের কদর ও চাহিদা রয়েছে সর্বত্রই। প্রিয় মানুষকে বরণ করে নিতে প্রস্তত বিভিন্ন বয়েসের শ্রেণী পেশার মানুষ। এসময়ে বেশী লাভের আশায় ফুলের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের শার্শা বেনাপোলের ফুল চাষীয়া। শার্শায় উৎপাদিত ফুল রফতানি হচ্ছে গদখালি ঢাকা চিটাগাং সহ বিভিন্ন জেলা শহরে লাভবান হচ্ছেন তারা। উপজেলায় উৎপাদিত দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজার ফুল নববর্ষের বাজারে বিক্রির আশা করছেন চাষী ও ব্যবসায়িরা।

শার্শা ও বেনাপোলে বাড়ছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা,জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, জিপসি, ক্যালেন্ডুলা, ডালিয়া, লিলিয়াম, চন্দ্র মল্লিকাসহ নানা জাতের ফুলের চাষসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ। উচ্চ মূল্যের ফসল হিসাবে ফুলচাষে লাভবান হচ্ছে চাষীরা। নববর্ষের বাজার ধরতে শার্শা-বেনাপোলের ফুল চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোর থেকে ফুল তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন তারা। ঢাকা ও চিটাগাংয়ের ফুল ক্রেতারা আসছেন এখানে। অনেক ফুল পাঠানো হচ্ছে স্থানীয় বৃহৎ ফুলের মোকাম গদখালি হাটে। ফুলের ফলন ও দাম ভাল পেয়ে খুশি তারা। বিদেশী জাতের ফুলচাষে লাভবান হচ্ছেন চাষী। একে-অপরের দেখাদেখি বাড়ছে চাষ এমনটাই জানান স্থানীয় ফুল চাষীরা।

ফুল চাষী শার্শা স্বরুপদাহ গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, ভারতের একটি প্রদেশে উৎপাদিত বীজ থেকে ১৩ বিঘা জমিতে মান সম্মত গোলাপ-গ্লাডুলার্স ও নতুন জাতের প্লাজোলা ফুল চাষ করেছেন তিনি। ফলন ও দাম ভাল পাচ্ছেন। তিন বছরে ৭লাখ টাকা খরচ করে ফুল বিক্রি করেছেন ১৬ লাখ টাকা। এবার ইংরেজি বর্ষবরণ এ উৎসবে কয়েক লাখ টাকা ফুল বিক্রির আশা তার।

শার্শা রাজনগর গ্রামের ফুল চাষী সাইফুল ইসলাম লাট বলেন , ১৫বিঘা জমিতে করেছেন প্রাউজলা গ্লাডুলাস ও গোলাপ চাষ। গত ৫ বছর ধরে করছেন ফুল চাষ। অধিক লাভের ফসল এ চাষ। পলে তার দেখে উপজেলায় অনেকে ফুল চাষে ঝুকছেন। লাভবান হচ্ছেন তারা, বাড়ছে কর্মসংস্থানের। অনেকের সংসারে ফিরছে সুদীন। বিভিন্ন উৎসবে ফুলের দামও পাওয়া যাচ্ছে ভাল। স্থানীয় বাজারে,জারবেরার স্টিক বিক্রি হচ্ছে১০-১৫ টাকায়, প্রাউজলা ৮/১০টাকা, রজনীগন্ধা ২-৩ টাকায়, গোলাপ ৬ থেকে ৮ টাকায়, রং ভেদে গ্ল্যাডিওলাস ৭থেকে ১০টাকায় এবং এক হাজার গাঁদা মিলছে ২৫০ থেকে ৪’শ টাকায়।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার বলেন, উচ্চ মূল্যের ফসল হিসাবে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কৃষকদের ফুল চাষে প্রশিক্ষন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এ অঞ্চলে শতাধিক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে হয়েছে ফুলের চাষ। উৎসবকে ঘিরে ফুল চাষিদের কাটছে ব্যস্ত সময় এবার দেড়কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা কৃষি বিভাগের। এলাকার ফুল বিভিন্ন জেলা শহরে রফতানি বাড়ছে। সহযোগিতা করছেন তারা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech