শেরপুরে অস্থিতিশীল ধান-চালের বাজার: শতশত শ্রমিক বেকার - ব্যবসা-বাণিজ্য - Premier News Syndicate Limited (PNS)

শেরপুরে অস্থিতিশীল ধান-চালের বাজার: শতশত শ্রমিক বেকার

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : ধান-চালের বাজার অস্থিতিশীল। তাই চালের দাম কমছেই। কিন্তু সে অনুযায়ী ধানের দাম কমছে না। এ অবস্থায় বেশি দামে ধান কিনে লোকসান দিয়ে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই অব্যাহত লোকসানের মুখে সিংহভাগ চাতাল বন্ধ রেখেছেন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চালের মোকাম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধান-চাল ব্যবসায়ীরা।

তবে সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ী মাঝে মধ্যে বন্ধ দিয়ে চাতাল চালু রেখেছেন বাজারে নতুন ধান আসবে-এই আশায়। কারণ এই মুহুর্তে চাতাল বন্ধ করে দিলে আসছে বোরো মৌসুমে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হবে। কেননা আর মাত্র এক মাস। এরপর নতুন ধান বাজারে আসবে। তাই লোকসান দিয়ে হলেও চারভাগের মধ্যে মাত্র একভাগ ব্যবসায়ী এখনো চাতাল চালু রেখেছেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চাতাল চালু রাখা সম্ভব হবে তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরী হয়েছে তাদের মাঝে। এছাড়া স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে ব্যাপারি আসছে না। ফলে চালের বাজার ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ায় লোকসান দিয়েও চাল বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে কথা হয় একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, শেরপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ (সাড়ে ৩৭কেজি) স্বর্ণা-৫জাতের ধান ৯৬০- ৯৭৫টাকা, গুটি স্বর্ণা ৮৬০-৮৭০টাকা ও বিআর-৪৯জাতের ধান ১০৫০-১০৭৫টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। জামাল সেখ, আইয়ুব আলী, আব্দুল আলীম জানান, গতকাল সোমবার ১৯মার্চ স্বর্ণা-৫জাতের ধান নওগাঁর ধামুরহাট, পোরশা, নজিপুর, মহাবেদপুর ও সাপাহারসহ বিভিন্ন মোকামে ৯৬০-৯৭০টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে।

তারা আরও জানান, প্রতিমণ ধান উক্ত পরিমান টাকা দরে কিনে ঘরে আনতে আরও ৩০-৩৫টাকা খরচ পড়ে। এরমধ্যে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়। এই ধান সিদ্ধ ও শুকানো বাবদ প্রতিমণে ব্যয় হয় ১৮-২০টাকা। আর ভাঙাতে আরও ১০টাকা খরচ পড়ে। সবমিলে ধান থেকে চাল উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিমণ ধানে খরচ পড়ে ১০২০-১০৩০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু চালের বাজারে ক্রেতা নেই। চালের দাম একেবারে পড়ে গেছে। ফলে প্রতি বস্তায় চালে ২০০-৩০০টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে। তবে এখান থেকে রাইচ পলিশ, কুঁড়া, খুদ ও চিটা ধান বিক্রি করে কিছু বাড়তি টাকা আসে। তাই এখনও বেশ কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী চাতাল বন্ধ করেন নি। কিন্তু এভাবে নিয়মিত লোকসান দিয়ে আর কতদিন ব্যবসা চালু রাখা সম্ভব-এমন শঙ্কার কথাই জানালেন তারা।

জাহাঙ্গীর আলম চয়ন নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, ভারতীয় চালে বাজার সয়লাব হয়ে পড়ায় দেশীয় চালের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দামও পড়ে গেছে। অব্যাহত লোকসানের মুখে তার মতো অনেকেই চাতাল বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ২০০-৩০০শ’ মণ ধান ধরে এরকম ২৪০-২৫০টি, ৪০০-৫০০শ’ মণ ধান ধরে এরকম ৭০-৮০টি এবং ৫০-৬০ মণহারে ধান শুকানো যায় এরকম ১৫০০-২০০০টি চাতাল রয়েছে। এছাড়া এখানে শতাধিক সেমি অটো রাইচ মিল রয়েছে। প্রতিটি বড় চাতালের বিপরীতে কমপক্ষে ১৪জন ও ছোট চাতালে ৪জন করে শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু এখানকার সিংহভাগ চাতাল বন্ধ থাকায় শতশত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানা চাউলকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ভুঁইয়া জানান, ভারত থেকে চাল আমদানি করতে এখন ট্যাক্স দিতে হয় না। এতে করে ভারতীয় চালে বাজার ভরপুর হয়ে গেছে। একইসঙ্গে দেশের ধান-চাল ব্যবসায়ীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। প্রতি বস্তা চালে ৩০০-৪০০টাকা পর্যন্ত তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তাই অব্যাহত লোকসানের মুখে ইতোমধ্যেই অনেক ব্যবসায়ী চাতাল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া এই অবস্থা চলতে থাকলে আসছে বোরো মৌসুমে প্রভাব পড়বে। কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যয্য দাম পাবেন না বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech