পেঁয়াজের বাজার : হিসাব কষে উল্টো ফল

  

পিএনএস ডেস্ক : রমজান সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও বাড়তি দাম পাবেন বলে হিসাব কষেছিলেন চট্টগ্রামের পেঁয়াজ, রসুন, আদার পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

আগে থেকেই মজুদ করে ফেলেন এসব নিত্যপণ্য। কিন্তু পর্যাপ্ত আমদানি থাকায় এলো উল্টো ফল। পচনশীল পণ্য হওয়ায় বেশি দিন রাখাও যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে আগাম বৃষ্টিতে ডুবেছে পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জোয়ারের পানির উচ্চতা। ফলে বিপাকে পড়া পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম দামেই ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের মজুদ।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারত রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মূল্য তুলে নেওয়ায় বাংলাদেশে কম দামে পেঁয়াজ আসছে। এতদিন যেখানে ভারত থেকে ৫৬ হাজার ১৬০ টাকা (৮০ টাকা ডলার হিসাবে) প্রতিটন পেঁয়াজ আমদানি হতো, এখন তা নেমেছে ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়। সে হিসাবে এক কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য দাঁড়ায় ১৬ থেকে ২০ টাকা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সব খরচসহ ২০ টাকায় আমদানি করে বর্তমানে পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন ১২ থেকে ১৬ টাকায়। খুচরা বাজারে ২৩ থেকে ২৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কেজিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে গড়ে ৭ টাকা।
খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্যের কমিশন এজেন্ট ও এসএন ট্রের্ডাসের মালিক আলী হোসেন খোকন বলেন, ‘রমজানের এক সপ্তাহ আগেও আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি করেছি ৩২ থেকে ৩৩ টাকা দরে। এখন বাজারে ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকা। আর বেলডাঙ্গা, সুখসাগর, শেখপুর ও ভেলোর জাতের ভারতীয় পেঁয়াজ ১২ থেকে ১৪ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।’ খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজারে এখন চরম মন্দাবস্থা। বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে তাতে মনে হচ্ছে দাম আরও কমবে।’

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, ‘দেশে এবার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া পণ্যটি পচনশীল হওয়ায় বেশি দিন মজুদ রাখা যায় না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কম হওয়ায় দেশীয় বাজারেও দাম কমতে বাধ্য। তাই ব্যবসায়ীদের লোকসান দিয়ে পণ্যটি বিক্রি করতে হচ্ছে। না হলে কিছু দিন পর নষ্ট হয়ে গেলে ফেলেই দিতে হবে।’

কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে শুধুই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয় এক লাখ ৮২ হাজার ৬২৩ টন। ভোমরা, সোনামসজিদ, বেনাপোল স্থলবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর মিলিয়ে আরও প্রায় এক লাখ টন আমদানি হয়।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech