জাতীয় রফতানি ট্রফি পেল ৬২ প্রতিষ্ঠান - ব্যবসা-বাণিজ্য - Premier News Syndicate Limited (PNS)

জাতীয় রফতানি ট্রফি পেল ৬২ প্রতিষ্ঠান

  

পিএনএস ডেস্ক : ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য রফতানি আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও সুসংহত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৬২ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রফতানি ট্রফি দিয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

রফতানি বাণিজ্যে অবদানের জন্য প্রতি বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে জাতীয় রফতানি ট্রফি দিয়ে থাকে। রফতানি উৎসাহিত করাই এর লক্ষ্য। সামগ্রিকভাবে সর্বাধিক রফতানির জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ ট্রফি দেয়াসহ ৩২টি খাতে ৩টি করে মোট ৯৭টি ট্রফি দেওয়া হয়। তবে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ২৮টি খাতে ৬২টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ট্রফি পেয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে ২৮ প্রতিষ্ঠান। রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান। ১৪ প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ব্রোঞ্জ ট্রফি। কয়েকটি খাতে আবেদন জমা পড়েনি। আর কয়েকটি খাতে জমা পড়া আবেদন পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়নি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ব্রাসেলসে সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্টের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে অন্যান্য পক্ষ (ইইউ, আইএলও) অ্যাকর্ড এবং অ্যালয়েন্সের মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। আর বাড়ানো যাবে না। আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের পর আর মেয়াদ বাড়ানো হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি) এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। অনেক প্রকৌশলী কাজ করছে। শ্রমিকদের এবং একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে। আবার গ্রীণ ফ্যাক্টরিও বাড়ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর কোনো পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতিতে অনেকেই ঈর্ষাণিত। যে কারণে অনেক ষড়যন্ত্র আছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য রফতানি ট্রফি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণ এখন জরুরি। চামড়া, প্লাস্টিক, ওষুধ খাত যতটা ভালো করার কথা, ততটা করতে পারছে না। এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। সরকার বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে। তবে জ্বালানির দাম কি হবে তা স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তা থেকে বের হতে চায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ কি হবে তা ব্যবসায়ীরা আগাম ধারণা পেতে চায়।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অনেকে অসৎ আছে। অনেকে শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করছে। তাকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু সৎ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা দিতে হবে। তিনি বলেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক ব্যাংক তা করেনি। এটা নিশ্চিত করা না হলে অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলাপি হয়ে পড়বেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশিষ বুস ও ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য।

স্বর্ণ ট্রফি পেল যেসব প্রতিষ্ঠান : খাত ভিত্তিক রফতানিতে ২৮টি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে। সকল খাতের মধ্যে সেরা রফতানিকারক হিসেবে স্বর্ণ পদক পেয়েছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্রেবিপ। আবার খাত ভিত্তিক রফতানিতেও এ কোম্পানি স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে। একেএম নীট ওয়্যার, ফকির নীটওয়্যারর্স, কামাল ইয়ার্ণ, এনভয় টেপাটাইল, নোমান টেরিটাওয়েল, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস, পপুলার জুট একচেঞ্জ, আকিজ জুট মিলস, এসএএফ ইন্ডাষ্ট্রিজ ও পিকার্ড বাংলাদেশ পেয়েছে স্বর্ণ ট্রফি। আরও পেয়েছে বে ফুটওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, প্রাণ ডেইরি, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, কারুপণ্য রংপুর, বেঙ্গল প্লাষ্টিক, শাইনপুকুর সিরামিকস, ইউনিগ্লোরী সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, বিআরবি কেবলস, বিসআরএম স্টিলস, স্কয়ার ফার্মা, সার্ভিস ইঞ্জিন, আরএম ইন্টারলাইনিংস, মনট্রিমস লিমিডেট, গাজী এন্টারপ্রাইজ ও ফেপিনকো।

রৌপ্য ট্রফি : রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে হা-মীম গ্রুপের রিফাত গার্মেন্টস, জিএসএম কম্পোজিট নীটিং, বাদশা ট্রেপাটাইল, প্যারামাউন্ট টেপটাইল, এসি এস টেপাটাইল, মীনহার সী ফুডস, বাবুল জুট ট্রেডিং, জনতা জুট মিলস, ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিন, আর এম এম এম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, ফুটবেড ফুটওয়্যার, হেরিটেজ এন্টার প্রাইজ, প্রাণ এগ্রো, ক্যাপিটাল এন্টারপ্রাইজ, ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস, ডিউরেবল প্লাস্টিক, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যাসিফিক জিন্স ও ইউনিগ্লোরী পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং।

ব্রোঞ্জ ট্রফি : ১৪ প্রতিষ্ঠান ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। এরা হলো- অনন্ত অ্যাপারেলস, স্কয়ার ফ্যাশন, সুফিয়া কটন মিলস, হামজা টেপাটাইলস, কুলিয়ারচর সী ফুড (কক্সবাজার), গোল্ডেন ফাইবার ট্রেড সেন্টার, এবিসি ফুটওয়্যার, আকিজ ফুটওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, ময়মনসিংহ এগ্রো, বিডি ক্রিয়েশন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ভিনেটড ডেনিম স্টুডিও এবং জাবের অ্যান্ড জোবায়ের এক্সেসরিজ।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech