কাঁচা চামড়া নিয়ে টেনারি মালিকদের কারসাজির শেষ কোথায়?

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : কোরবানীর পশুর চামড়া নিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন একশ্রেণীর টেনারির মালিক। আবার পাচারের আশঙ্কাও করছেন তারা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে খুচরা ব্যবসায়ী চামড়া কিনলেও অনেক কমদামে এগুলো বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিষয়টি সচেতন মহলকে অবাক করছে।

দেশ-বিদেশে চামড়াজাত পণ্যের দাম যখন আকাশচুম্বি, তখন চামড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের একধরনের তামাশা নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সরকার-প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা রহস্যজনক বৈকি। এভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহের পাশাপাশি চামড়া পাচারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।

বাজারে জুতা থেকে শুরু করে চামড়ার তৈরি পণ্যের চাহিদা ও কদর যথেষ্ট। এক্ষেত্রে সবার চাহিদা ও অগ্রাধিকার থাকে চামড়ার দিকে। তারপর রেক্সিন থেকে শুরু করে অন্যদিকে। গ্রাহকদের কাছে এসব লোভনীয় ও দরকারি পণ্যটির অন্যতম কাঁচামালের অনাদার কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না সচেতন জনগোষ্ঠীর কাছে।

কয়েক বছর ধরে কাঁচা চামড়ার মূল্য নিয়ে কারসাজি লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা মূলত গরিবের হক। গরিব ঠকানোর আয়োজন বললে কমই বলা হবে। কাঁচা চামড়া নিয়ে এমনটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চামড়া শুধু আড়তে নয়, কোরবানীদাতাদের আঙ্গীনায়ই পচবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ চামড়ার অর্থে পরিচালিত দীনি প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানাগুলো।

চামড়া রফতানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশ। টেনারি মালিকরাও থাকেন বেশ চাঙ্গা। অথচ মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ীদের হা-হা-কার সব সময়ই চোখে পড়ে। একদিকে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া অন্যদিকে বকেয়া না পাওয়ার অভিযোগ প্রতিবছরই মিডিয়ার কল্যাণে দেশবাসী শুনে থাকে। একশ্রেণীর টেনারি মালিক সিন্ডিকেট করে এসব করছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগের সমাপ্তি ঘটছে না।

আজও টিভি স্ক্রিনে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের অভাবে এক লাখ চামড়া রাজধানীর কোনো এক আড়তে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আর সবারই জানা যে, হাজারিবাগ থেকে টেনারি শিল্প সাভারের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটি নিয়ে টেনারি মালিকদের যারপরনাই গড়িমসি। এখনও তারা সাভারে নয়; বরং হাজারিবাগেই চামড়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে!

নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও অর্থসংকট ও লবণের অজুহাতে সে দামে চামড়া না কেনা, খুচরা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সব সময়ের মতো ন্যায্য দাম নিয়ে হা-হা-কার আর চোখের পানি; রাজধানীতে প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে লক্ষাধিক চামড়ার পচন আর এসব কারণে পাচারের আশঙ্কা তৈরি, বেঁধে দেওয়া সময়ে সাভারে না যাওয়া সর্বোপরি এখনো হাজারিবাগে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এদের খুঁটির জোর কোথায়?

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech