রমজানকে সামনে রেখে অসৎ ব্যবসায়ীরা তৎপর

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান): রমজানকে সামনে রেখে অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজি শুরু হয়ে গেছে। বাজারের কিছু কিছু পণ্যের আকর্ষিক মূল্যবৃদ্ধি, সে সাক্ষ দিচ্ছে। রমজানে প্রয়োজন বা অত্যাবশ্যকীয় এমন পণ্যগুলোর দাম হু হু করে বাড়ছে। মূল্যবৃদ্ধির লাগাম এখনই না ধরলে, রমজানে জ্যমেতিক হারে বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইতিমধ্যে সচেতন খাদকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা রহস্যজনক। ইফতারের খেজুর, বুট থেকে শুরু করে গরু, দেশি মুরগি, পাকিস্তানী, বয়লার, ডিম ও মাছের দাম হঠৎই বেড়ে গেছে। এক মাস আগে থেকে এগুলোর দাম আগাম বাড়িয়ে দিয়েছে অসৎ ব্যবসায়ীরা।

এতদিন যে গরুর গোশত বিক্রি হতো ৪৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮০ টাকা কেজি, সে গরুর গোশতের কেজি এখন ৫০০ টাকার উপরে। যে বয়লার বিক্রি হতো ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়।যে ডিম ছিল ৩০ টাকা হালি, সে ডিম এখন ৩৮ টাকা!

মাছের দামও বেশ চড়া। মাঝখানে কিছুটা কম ছিল, এখন ২০০ টাকা কেজির নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। খেজুরে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ! দাম কমেছে বা স্থিতিশীল আছে- এমন পণ্যের তালিকা বাজার ঘুরে দেখা যায়নি। বরং তরু-তরকারির দামও আকাশ ছোঁয়া।

বাজারে গিয়ে দাম শুনে ক্রেতাদের মাথা ঘুরে যাওয়ার উপক্রম। যদিও প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। অথচ ধুরন্দর একশ্রেণীর ব্যবসায়ী কায়দা করে আগেই রমজানে প্রয়োজন- এমন পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমাদের দেশের ৮০ শতাংশের উপরে মুসলমানের বাস। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশে রমজানে পণ্যমূল্য কম রাখা হয়, সেখানে আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী যেন মুখিয়ে থাকে রমজানে রোজদারদের পকেট কাটার জন্য। অতি মুনাফাখোর এসব ব্যবসায়ীর ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।

এত এত খুই খাই অবস্থার মধ্যেও রমজানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সিলেটের ‘হেল্পিং উয়িং’ নামক একটি সংস্থা। মাত্র ২ টাকায় সংস্থাটি ৫ দিন ইফতার করাবে নগরবাসীকে। সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা কারো আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগুক এমন কিছু করতে চাইছেন না বলেই ২ টাকার বিনিময়ে ইফতার সরবরাহ করতে চান।

জানা গেছে, ১৩ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত নগরীর সুবিদবাজার, কুমারপাড়া, শাহী ঈদগাহ, নাইওরপুল ও চৌহাট্টা সহ ৫টি পয়েন্টে তারা ২ টাকায় ইফতার সরবরাহ করবেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ২ টাকায় ১০টি পদের ইফতারের প্যাকেট দেওয়া হবে।

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবি কিছু পণ্য রাজধানী ঢাকায় বিক্রি করে সব সময়। এবারও করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সেখানে তো মাছ-গোশত, মুরগি আর ডিম পাওয়া যাবে না। ঢাকার গোশত ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে তারা ২৫০ টাকা কেজি গরুর গোশত বিক্রি করতে পারেন। গরুর গোশতের দাম বাড়া মানে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, এ থেকে সেটাই স্পষ্ট হলো বৈকি।

রমজানে রোজাদারদের প্রয়োজন, এমন পণ্যের দাম যেন না বাড়ে বরং কমে; সেদিকে দায়িত্বশীলদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের। নাজাতের মাসে অধিক মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে রোজাদারদের নিরাপদ রাখার এবং রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech