এখনো আটকা পেঁয়াজবোঝাই সাড়ে সাতশ ট্রাক

  

পিএনএস ডেস্ক : ভারতের নিষেধাজ্ঞার আগে এলসি করা পেঁয়াজ বোঝাই সাড়ে সাতশ ট্রাক রয়েছে বাংলাদেশের ভোমরা, হিলি ও বেনাপোল স্থলবন্দরের ওপারে। বাংলাদেশে প্রবেশে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মেলায় এসব ট্রাকে আটকা পড়েছে প্রায় ২০ হাজার টন পেঁয়াজ। ভারতের সিদ্ধান্তের অনেক আগে এলসি করা এসব পেঁয়াজ নিয়ে আমদানিকারকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। পচনশীল পণ্য হওয়ায় এসব পেঁয়াজ রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পচে যাওয়ার আশংকা তাদের।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গড়ে প্রায় ২৫ টন করে পেঁয়াজ বোঝাই এসব ট্রাকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আটকে আছে। সর্বোচ্চ তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ট্রাকগুলো থেকে পেঁয়াজ না নামাতে পারলে বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন তারা।


গত সোমবার হঠাৎ করে রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। দেশটির এমন সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা। একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম একশ টাকা পেরোয়। যা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আগেভাবে ভারতের অবহিত করার প্রয়োজন ছিল। সরকারও একই দাবি করে ভারতকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ করেছে। এই অবস্থায় অভিযোগ উঠেছে, রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেও আগের এলসি করা যেসব ট্রাক দেশে আসার অপেক্ষায় আছে তাও ঢুকতে দিচ্ছে না ভারত। ফলে সময় যত যাচ্ছে তত ক্ষতির আশঙ্কা মাথায় ভর করছে। কারণ প্রতিদিন যেখানে ট্রাক আসত সেখানে একই জায়গায় চারদিন ধরে পড়ে আছে। আবার গুড়িগুড়ি বৃষ্টিও হচ্ছে।

স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরার ভোমরা ও দিনাজপুরের হিলিতে তিনশ ও যশোরের বেনাপোল বন্দরের ওপারে দেড়শ পেঁয়াজবাহী ট্রাক আটকে আছে। ট্রাকগুলোর আকারভেদে ২০ থেকে ৩০টন পেঁয়াজ রয়েছে। সেই হিসাবে গড়ে ২৫ টন হিসেবে সাড়ে সাতশ ট্রাকে ১৮শ হাজার ৭৫০টন পেঁয়াজ দেশে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। কিন্তুপেঁয়াজ বোঝাই এই ট্রাকগুলি কবে নাগাদ ট্রাকগুলি ঢুকতে পারবেও তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

এদিকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে সামান্য কিছু কমতে শুরু করেছে। তবে এর কোনো প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে নতুন করে পেঁয়াজ আসায় কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে, তবে খুচরার বিষয়ে তথ্য জানা নেই। আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারদের কাছ থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কেনা। সেখানে কম দামে পেলে খুচরায়ও দাম কমবে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, মগবাজার চারুলতা মার্কেট, মালিবাগ বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। কারওয়ান বাজারের আড়তে পাইকারি দেশি পেঁয়াজ প্রতিপাল্লা (পাঁচ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ টাকা বা ৮৬ টাকা কেজি দরে, দেশি (কিং) বিক্রি হচ্ছে ৪শ টাকা পাল্লা (পাঁচ কেজি) বা ৮০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা (এলসি) পেঁয়াজ প্রতিপাল্লা ৩১০ টাকা বা ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে কাঠালবাগান, মগবাজার চারুলতা মার্কেট, মালিবাগ ও খিলগাঁও বাজার খুচরা প্রতিকেজি দেশি (কিং) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকা, আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় সরকারিভাবে টিসিবির ট্রাকসেলে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন এ বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন