পেঁয়াজ আনতে প্রণোদনা চাইলেন ব্যবসায়ীরা

  

পিএনএস ডেস্ক : বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। সংকটের কোনো কারণ নেই। তারপরও হঠাৎ করে দাম বাড়ার কারণ জানা নেই আমদানিকারকদের। এর পরও যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে তাতে দাম না কমার আশঙ্কা করছেন তারা। এক্ষেত্রে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ অর্থাৎ ১ থেকে ২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে প্রণোদনাও চান তারা। রাজধানীর কাওরানবাজারের একটি হোটেলে গতকাল পেঁয়াজের বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির আয়োজনে মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এ কথা বলেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, তবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি। কিছু আমদানি করতে হয়। তার মানে এই নয় যে, এক মাস চলার মতো পেঁয়াজ দেশে মজুদ থাকে না। গত বছর ৭টি বড় কোম্পানিকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়ে পরিস্থিতি কি হয়েছিল তা সবার জানা। এ জন্য সব আমদানিকারকে পেঁয়াজ আমদানি করতে সুযোগ দিতে হবে। তাহলে বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবে। এ ছাড়াও আমদানি করা পেঁয়াজ বন্দরে ৩ দিনের বেশি আটকে রাখতে পারবে না এমন আইন করা উচিত। তাহলে দাম বাড়ানোর জন্য চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ করতে পারবে না। আমদানিকারকদের ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিতে হবে। পাশাপাশি আমদানি শুল্কমুক্ত করে দিতে হবে। তাহলে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলতে পারবে না। সরকার কিছু টাকা প্রণোদনা দিলে দেশের সাধারণ ক্রেতারা বেঁচে যাবে। এ দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, বাজার সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য আজ (শনিবার) মনিটরি সেল গঠন করা হচ্ছে। তাদের কাজ হবে যেখানেই দাম বেশি রাখা হবে, তাৎক্ষণিক আইনশ্খৃলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করবে। তিনি বলেন, এ বছর পেঁয়াজের যে ফলন হয়েছে তাতে ঘাটতি থাকার কথা না। পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে। বিদেশ থেকে যে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক ভালো মানের পেঁয়াজ আমাদের দেশেই উৎপাদন হয়েছে। করোনাকালীন শুধু পেঁয়াজ না, কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না।

আমদানিকারক ওমর ফারুক বলেন, গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে হু হু করে দাম বেড়ে গেল। এমন হওয়ার কথা না। তখনও যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ ছিল তাতে বাজার স্বাভাবিক থাকার কথা। কিন্তু আমরা ভিন্ন চিত্র দেখলাম। এ বছরও সেদিকেই যাচ্ছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম বেড়ে গেল। এমনটা হবে কেন? আমদানি হতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় যদি লাগে তাহলে এত কম সময়ের জন্য কী দেশে পেঁয়াজ মজুদ করা নাই এমন প্রশ্ন তার। ক্রেতাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। দাম বাড়বে এই খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ২ কেজি কিনেন, তিনি খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে এক বস্তা কিনে রাখেন। এ কারণে দাম আরও বেড়ে যায়। ভারত থেকে অপ্রয়োজনীয় টমেটো আমদানি বন্ধ করতে হবে। এর বিপরীতে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতে হবে বলেও মনে করেন এই ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ঝন্টু বলেন, আমদানিকারকরা যে পরিমাণ আমদানির অনুমোদন নিবে সেই পরিমাণ আমদানি করতে হবে। অনুমোদন নেয় বেশি আমদানি করে কম। এসব কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন