নিষিদ্ধ সত্বেও পুরোদমে সক্রিয় এমএলএম ব্যবসা!

  

পিএনএস ডেস্ক : আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসা। মানি লন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎসহ নানামুখী প্রতারণার অভিযোগে নিষিদ্ধ কোম্পানিগুলো, তার পরও থেমে নেই। অবৈধভাবে বিক্রি করছে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য। এমনকি অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ পাসের পর অনুমোদন পাওয়া চারটি কম্পানির কার্যক্রম তদন্তে গত বছর একটি সংসদীয় সাবকমিটি গঠন করা হয়। ওই সাবকমিটির তদন্তে চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে আরো অন্তত ২০টি নিষিদ্ধ কোম্পানি ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ওই চার কোম্পানির অনুমোদন বাতিল করা হলেও তা ওই পর্যন্তই। অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আলোচনার এক পর্যায়ে কমিটির সদস্যরা জানতে চান, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও কম্পানিগুলো কিভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি ও ডিলারের মাধ্যমে বিতরণ করছে। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নিষিদ্ধ এমএলএম কোম্পানিগুলোর প্রতারণা থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। নতুন কোনো এমএলএম কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। সদস্যদের দাবীর মুখে তিনি জাতীয় সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অভিযোগ করেন, রাজধানীতে প্রায় দেড় ডজন প্রতিষ্ঠান এই নিষিদ্ধ এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য বিতরণ করছে। অথচ এ পদ্ধতির সব কোম্পানিই এখন বেআইনি।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, রাজধানীর মহাখালীতে অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের ওষুধের বিপণন কার্যক্রম চালাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত এমএলএম কোম্পানি পিনাকল সোর্সিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল হলেও সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে অফিসে ডেকে নিয়ে লাখপতি-কোটিপতি বানানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাদের বিপণনকৃত ৬৫টি পণ্যের সবই অনুমোদনহীন। এর মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যই ওষুধ। আর প্রতিষ্ঠানটিকে এসব ওষুধ তৈরি করে দিচ্ছে ভেজাল ওষুধ তৈরির দায়ে লাইসেন্স হারানো হলি ড্রাগস ল্যাবরেটরিজ।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সংসদীয় কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নতুন আইন প্রণয়নের পরও বেশ কিছু কোম্পানি প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৈঠকে কমিটির সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে সংসদ অধিবেশনে বিবৃতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ডেসটিনি, যুবক, ইউনিপেটুসহ শতাধিক কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবসার নামে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৩ সালের অক্টোবরে এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইনে এমএলএম ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বাধ্যবাধকতা করা হয়। আইনটি করার পর এমএক্সএন মডার্ন হারবাল ফুড, ওয়ার্ল্ডভিশন ২১, স্বাধীন অনলাইন পাবলিক লিমিটেড ও রিচ বিজনেস সিস্টেম নামে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪ সালের ৫ মার্চ এক বছরের জন্য এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করার লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সংসদীয় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

এমএলএম কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইনে বলা হয়েছে, পিরামিডসদৃশ বিপণন কার্যক্রম চালানো, সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ মোড়কজাত না করে পণ্য বিক্রি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য বা সেবা বিক্রি না করা, পণ্য বা সেবার অযৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, নিম্নমানের পণ্য বা সেবা বিক্রি করা এবং অসত্য, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


পিএনএস/সামির/শাহাদাৎ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech