বেনাপোল স্থল বন্দরে কমেছে ভারতীয় পেয়াজ আমদানি-দাম দ্বিগুন

  

পিএনএস : দেশের বৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে পেয়াজ আমদানি কমেছে অর্ধেকে। স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে দিগুন। এক সপ্তাহ আগে এক কেজি পেয়াজের দাম ছিল ত্রিশ টাকা। বর্তমানে শার্শা, বেনাপোল, নাভারন, বাগআচড়া সহ বিভিন্ন বাজারে এক কেজি পেয়াজ কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়-ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে নাভিশ্বাস। অতি বৃষ্টি, ডলার সংকট সহ ভারতীয় বাজারে দেশি পেয়াজের চাহিদা বাড়ার কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেয়াজ আমদানি কমেছে অর্ধেকে এমন টাই জানান পেয়াজ আমদানিকারকরাসহ ব্যাবসায়িরা।

বেনাপোলের পেয়াজ আমদানিকারক মেসার্স আলম এন্ড সন্স এর প্রতিনিধি আলাউদ্দিন বলেন,যেখানে প্রতিদিন ভারত হতে দেড় থেকে ২ হাজার বস্তা পেয়াজের চালান বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতো সেখানে গত এক সপ্তাহে এসেছে মাত্র ১২টি ট্রাকে-সাড়ে তিন হাজার বস্তা পেয়াজ।

বেনাপোল শুল্কভবনের যুগ্ম-কমিশনার আতিকুর রহমান বলেন,বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ২২ হাজার ২৬৪ মেট্রিকটন পেঁয়াজ কম আমদানি হয়েছে। তিনি জানান বাজারে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশি পেঁয়াজ রয়েছে। বাজারে চাহিদা না থাকায় ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

খুলনার পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের দোয়াএন্টারপ্রাইজের’স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান বলেন,ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো ছোট আমদানিকারকদের এলসি খুলে দিতে চাচ্ছেন না। এ ছাড়া ভারতে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরাও আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে দেশীয় বাজারে বাড়ছে পেয়াজের দাম।

ভারত থেকে পেয়াজ কম আসায় দাম বেড়েছে বলে জানান নাভারন বাজারের রানা ভান্ডারের স্বাত্তাধিকারী মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন ভারতীয় পেয়াজ আসলে দাম কমে। না আসলে বাড়ে।

শার্শা সবজি বাজারে পেয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা রেখা বিশ্বাস ও ক্রেতা শিল্পি বেগম বলেন- গত ২ সপ্তাহ আগে ২২টাকা কেজি পেয়াজ কিনেছি। সেখান থেকে এক লাফে বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫টাকা দরে কিনতে হচ্ছে পেয়াজ। বাজার মনিটরিং না থাকায় ইচ্ছামতো ব্যাবসায়িরা দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ক্রেতরা। শার্শা ফুলসরা থেকে বেনাপোল বাজারে আসা পেয়াজ ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন-দেশটা মগের মুল্লকে পরিনত হযেছে। কোন পন্যের দাম কমলে ব্যাবসায়িরা কম নেননা।

বেনাপোল বাজারের পেয়াজ বিক্রেতা- কাজল হোসেন শার্শার বাজারের ফরিদ গাজি বলেন যেমন কেনেন তেমন বেচেন। ৪৮থকে ৫২ টাকা কেজি দরে কিনছেন পেয়াজ ২টাকা লাভে বিক্রী করছেন তারা।

বেনাপোল শুল্কভবনের যুগ্ম-কমিশনার আতিকুর রহমান আরো জানান,বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরের ১০ মাসে বন্দর দিয়ে ৪৬ হাজার ৯১৬ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৬২২ টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে মাত্র ২৪ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৩৩ মেট্রিকটন। এর আর্থিক মূল্য ১২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৫৪ টাকা।

জুলাইয়ে আমদানি হয় ২ হাজার ১৭৮ মেট্রিকটন। আগস্টে ১ হাজার ৩৪৫, সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ২১৬,অক্টোবরে ১৫৫, নভেম্বরে ১৪৬, ডিসেম্বরে ৯ হাজার ৬২৮, জানুয়ারিতে ৬ হাজার ১৭৪, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ১৯৪, মার্চে ১ হাজার ৫০৬ ও এপ্রিলে ১০৫ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। মে জুন দুই মাস পেয়াজ আমদানি কম হয়।

খুলনার পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের দোয়াএন্টারপ্রাইজের’স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান বলেন, ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো ছোট আমদানিকারকদের এলসি খুলে দিতে চাচ্ছেন না। এ ছাড়া ভারতে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরাও আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

“এখন পেয়াজ আমদানি করলে প্রতিট্রাকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান যশোরের আমদানিকারক ‘আহমেদ এন্টারপ্রাইজের’ ব্যবস্থাপক তুহিন সাহা তিনি বলেন,ভারতের কলকাতা থেকে মাঝারি মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি আগে কিনতে হতো ১৪-১৫ টাকায়। বন্দরের আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে দাম পড়তো ১৯/২০ টাকা। বর্তমানে আমদানি মূল্য বেড়ে গেছে। ফলে এ অবস্থায় পেঁয়াজ আমদানি করলে পুঁজি হারাতে হবে বলে দাবী করেন তারা।

আমদানিকারক ‘সুজয় এন্টারপ্রাইজের’ স্বত্বাধিকারী মিন্টু সাহা বলেন,ডলার স্বল্পতার কারণে অনেক আমদানিকারক ভোগ্য পণ্য আমদানি করতে পারছেন না।বর্তমান বাজারে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখন আমদানি করলে লোকসান গুনতে হবে।‘ডলার সংকট’ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, ‘আমরা চাহিদামতো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার সরবরাহ পাচ্ছি না। যে কারণে গ্রাহকদের এলসি করা কমিয়ে দিয়েছি। তবে স্থানীয় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ সাপেক্ষে কিছু এলসি খোলা হচ্ছে।’

নাভারন বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মাসুদ রানা জানান,ভারতীয় পেয়াজ কম আসায় বাজারেদেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা কেজি দরে। তার মতে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আরও এক মাস থাকবে। এরপর আমদানি করা পেঁয়াজ বাদে বাজার নিয়ন্ত্রনে আসবে না।

যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, এবার দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। এ ছাড়া ভারতে দাম বেশি থাকায় আমদানিকারকরা পণ্যটি এনে লোকসানের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। এমনকি ডলার সংকট দেখিয়ে অনেক ব্যাংক আমদানিকারকদের এলসি খুলছে না। এসব কারণে বেনাপোল দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমে গেছে। দেশীয় পেয়াজ উৎপাদন বাড়লে কমবে পেয়াজের দাম।

পিএনএস/মো.সাইফুল্লাহ/মানসুর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech