রমনা পার্কে ঘুমায় পাগল, প্রেমিক প্রেমিকার অশ্লীলতা!

  

পিএনএস: ঢাকা এক জনবহুল নগরী। মানুষ একটু ছুটি বা অবসর পেলেই বিভিন্ন পার্ক বা উদ্যানে ঘুরতে যান প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের আশায়। এই কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক শহরের বিশাল বিশাল দালান-কোঠার মধ্য থেকে কিছুটা সময় খোলা আকাশের নিচে কাটানোর জন্য ছুটে যান সবুজের সমারহ রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী ও চন্দ্রিমা উদ্যানে কিংবা বোটানিকেল গার্ডেনে। তাদের জন্য সেই পার্ক বা উদ্যানগুলো এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্কের মধ্যে নানান অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। আড়াল ও ছাতার নিচেই শিক্ষার্থীরা অশ্লীলতার নিরাপদ স্থান হিসেবে বেঁচে নেয়।

যেমনটা আজ মঙ্গলবার দুপুরে রমনা পার্ কে গিয়ে দেখা গেছে, এক পাগল ঘুমাচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের অশ্লীলতাও চোখে পড়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্র পার্কগুলো শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর মেলামেশার অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যেই বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের এইসব কার্যকলাপ পশ্চিমাদেরও হার মানিয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন পার্কে ঘুরে দেখা যায়, অতি আধুনিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ইউনির্ফম পরেই প্রেমের নামে মিলিত হচ্ছে অনৈতিক সম্পর্কে।তরুণ-তরুণীদের প্রায়ই স্কুল-কলেজের পোষাকেই রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। এই অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব কারণে দেশের শিক্ষক ও অবিভারকরাও তাদের সন্তাদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, এসব বন্ধে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সেই সাথে আমাদের শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবারই সচেতন হওয়া দরকার। তা না হলে দিন দিন আমাদের সমাজ ধ্বংসের দিকে যাবে এবং তরুণ-তরুণীদের জীবনে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো বেড়েই চলবে।

রাজধানীর একটি পার্কে কলেজ পড়ুয়া এক জোড়া শিক্ষার্থীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে এ প্রতিবেদক তাদের প্রেমের বিষয়ে জানতে চাইলে, তারা জানায়, তারা একাধিক বার এই পার্কের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় দৈহিক মেলামেশা করেছে। এটা তাদের কাছে স্বাভাবিক বলে জানায়।

উভয়ে বলেন, বর্তমানে প্রেম ছাড়া আধুনিক জীবন ভাবাই অসম্ভব। সবাই এখন প্রেম করে তাই আমরাও করি। আর এখন প্রেম না করলে, কখন প্রেম করবো? আমরা প্রেম করছি তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায় বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ঢাকার রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, ধানমন্ডি লেক ও বোটানিকেল গার্ডেন বিনোদনের জন্য তৈরী হলেও এখানে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। অশ্লীল কার্যকলাপে মগ্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছে যেন কিছু মনেই হচ্ছে না। এই সমস্ত অশ্লীল কাজ আমাদের সমাজের অন্তরায়। তারা এ কাজ করার জন্য একটু আড়াল ও ঝোপ বেছে নেয়। কেউ কেউ আবার প্রকাশেই একে-অপরকে চুমু খাওয়ায় মহা ব্যস্ত, একে-অপরকে ঝাপটি মেরে ধরে বসে থাকে। তাদের কাছে যেন কিছু মনেই হচ্ছে না। পাশে কেউ বসা আছে বা পাশ দিয়ে কেউ যাচ্ছে। তারা এখানে আসে শুধু অনৈতিক কাজ করার জন্য।

অন্যদিকে যারা ছুটির দিনে বা কর্মব্যস্ত যান্ত্রিকতাকে ভুলতে এক চিলটে সবুজের সান্নিধ্য লাভে প্রাণ ভরে সতেজ অক্সিজেন গ্রহণ করতে এই স্থান গুলোতে আসে কিন্তু বর্তমানে এই সমস্ত ছেলে মেয়েদের অশ্লীল কর্মকান্ড দেখে তারা আর আসছে না।

চন্দ্রিমা বা জিয়া উদ্যানটি দর্শনার্থীদের কাছে বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় দিন দিন এর দর্শনার্থী সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সেই উদ্যানের সর্বত্রে অশ্লীতার ছড়াছড়ি। বিনোদন বলতে কিছুই নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পার্কগুলোতে অসংখ্য প্রেমিক-যুগলের ভীড় লেগে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা যে কর্মকান্ড করে সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী বা যুবক-যুবতী। পার্ক বা উদ্যানগুলোতে সতর্কবাণী থাকলেও কার্যত এই নির্দেশনা লোক দেখানো। লেখা দেখেও কেউ তা মানছেন না।

উদ্যানগুলোতে ঘুরতে যাওয়া এক পরিবার বলেন, ‘সুস্থ কোন মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে উদ্যানগুলোতে ঘোরাফেরা করার কোন অবকাশ নেই। প্রকাশ্যে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা বুকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকা, ছাতা মেলে সেটার আড়ালে আরো কত সূড়সূড়ি। চোঁখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech