রামপালে নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

  

পিএনএস, স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট : রামপাল উপজেলা সেটেলমেন্টের নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যার বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস খতিয়ানের জমি রেকর্ড করিয়ে দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারী তার আপন ভাই ও বোন গং রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারি সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বরাবর লিখিত জবানবন্দিতে জানান, উপজেলার বড়দিয়ার মৃত জব্বার মোল্যার পুত্র সেটেলমেন্ট অফিসের নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যা তার হতদরিদ্র পিতা, ভাই ও বোনদের সরকারি বন্দোবাস্তকৃত জমির মাঠ জরিপে দখল স্বত্ব বলবোৎসহ আফিলেও রেকর্ড প্রদান করা হয়। কিন্তু ওই সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎকারী ওই নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যা কৌশলে প্রিন্ট পর্চার নথিসহ সকল নথি গায়েব করে ফেলেন। পরবর্তীতে বড়দিয়া মৌজার যাবতীয় কাগপত্র প্রিন্ট হয়ে আসলে দেখা যায় বড়দিয়া মৌজার ডিপি ৬২ ও ৩৪৯ নং প্রিন্ট পর্চা সঠিকভাবে করা হয় নাই।

আরও জানা যায়, ওই নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যা তালবুনিয়া মৌজার ৩৪৫ ডিপিতে ৫ একর ৯০ শতক, বড়দিয়া মৌজার ১২১ ডিপিতে ৮ একর ২৯ শতক জমি সেসহ কয়েকজনে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এছাড়া বড়দিয়া মৌজার ৬২ নং ডিপি ৯৫৫ দাগের ২১ শতক জমি তার পিতার নামে রেকর্ড থাকলেও ওই জমি সরকারের নামে রেখে নিজে ভোগদখল করে আসছে। এছাড়াও সে এসএ ৪৫৪ এর ৫৩২, ৯৫৪ ও ৯৫৫ দাগের মধ্যে মোট ১ একর ২৫ শতক সরকারি জমি তার দলিল ছাড়া অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে তহশীলদারের রিপোর্টে দেখা গেছে। বড়দিয়া মৌজার পাবলিক লিষ্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ওই নৈশ প্রহরী স্কুলেই যায় নাই। তার বর্তমান বয়স প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি। তিনি কি করে ৭/৮ বছর পূর্বে জাল জালিয়াতের মাধ্যমে নৈশ প্রহরীর চাকুরী নিয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার আপন ভাই ও বোনেরা। তার ডিউটি রাতে হলেও সে অফিস চলাকালীন সময় অফিসের নথি ও রেকর্ড রুমের কাগজপত্র কিভাবে চর্চা করেন ? শুধু তাই নয় রেকর্ড রুমের চাবি ও কি করে তার কাছে থাকে ? এসব অভিযোগের বিষয়ে নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যা কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুল করে অফিসাররা তার নামে কিছু খাস জমি রেকর্ড করে দিয়েছেন। বিভিন্ন মৌজায় কিভাবে এত পরিমান সরকারি জমি রেকর্ড হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এর পক্ষে কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। ভাই বোনের জমির রেকর্ড পর্চা গায়েব ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নৈশ প্রহরীর চাকুরী নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে সহকারি সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের জমি রেকর্ড করাতে হলে এখন থেকে আর নতুন করে কোন সংশধনী দেওয়া যাবে না। তাদের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে যেতে হবে। অবৈধভাবে নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যা বিপুল পরিমান সরকারি সম্পত্তি রেকর্ডের মাধ্যমে আত্মসাতের বিষয়ে ও ভুয়া তথ্য প্রদান করে নৈশ প্রহরীর চাকুরী নেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, আমার পূর্ববর্তী অফিসাররা কিভাবে এটা করেছেন তা আমি বলতে পারবোনা তবে নৈশ প্রহরী ইন্তাজ মোল্যার চাকুরী মাষ্টার রোলের। তার চাকুরী পুনরায় নবায়ন করা হবেনা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech