বন্ডের উদাসীনতায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : বন্ডের অপব্যবহারে প্রতি বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এই টাকার অপচয় না হলে দেশের আরো উন্নয়ন হতে পারতো। এই টাকা কতিপয় শিল্পপতি, ক্ষমতার কোল ঘেষে থাকা কিছু অপরাজনীতিক এবং বন্ড কমিশনারেটের কতিপয় কর্মকর্তারা কুক্ষিগত করেছে। বিগত কয়েক বছরে বন্ড কমিশনারেটে যারা চাকুরী করেছে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব মেলালে এই অভিযোগের প্রমাণ মিলবে। এই দুর্নীতিবাজদের পাকড়াও করতে বারবার টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা এলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। অবৈধ টাকার গরমে বন্ড কমিশনারেটের একজন কমিশনার নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েন তখন তাঁর সহায়-সম্পদ কল-কারখানার ফিরিস্তি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। নড়েচড়ে বসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তারপর কি হয়েছে সংশ্লিষ্ট কেউ জানে না। এভাবেই দায়ী কর্মকর্তারা বারবার পার পেয়ে অবৈধ সম্পত্তির জোয়ারে ভাসছেন।

বন্ডের অপব্যবহারের কারণে সরকার যে শুধু রাজস্ব হারাচ্ছে তাই নয় বরং দেশের বস্ত্র খাতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ইসলামপুরে বন্ডের কাপড়ের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশে তৈরী কাপড়। অফিস পাড়ার রাস্তা-ঘাটে আজকাল কর ফাঁকি দেয়া কাপড় বিক্রি হলেও এগুলো কেউ দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না। অথচ শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ ব্যাপারে মাঝে মাঝে অভিযান চালালে বন্ডের অপব্যবহার সামান্য হলেও কমে যেত। বস্ত্র শিল্পের পাশাপাশি ইয়ার্ন, ডাইস ক্যামিক্যাল, পিপি দানা, কাগজ, থিনার, লবণ, বিএপিপি, এইচডিপি, জাহাজ তৈরীর সরঞ্জামসহ অনেক সেক্টরেই বন্ডের অপব্যবহারের নামে চলছে বার ভূতের খেলা। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, একটি বন্ডের লাইসেন্সের সরকারী ফি অতি সামান্য টাকা হলেও তা হাসিল করতে সংশ্লিষ্টরা বিপুল পরিমান টাকা খরচ করে। বন্ডের লাইসেন্সের অফিসে পরিচয় গোপন করে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলেই দেখা যাবে সেখানে টাকা উড়ছে। অনেকেই তাই বন্ড কমিশনারেটকে আজকাল রসিকতা করে নাম দিয়েছে “ঘুষের হাট।" কিন্তু ঘুষের হাটে প্রকাশ্যে যে টাকার লেনদেন চলে তা অতি সামান্য অংশ মাত্র। বড় টাকার হাত বদল হয় পর্দার আড়ালে বড় বড় হোটেলে কিংবা ফরমায়েশ মতো দেশে-বিদেশে। বরাবরই বন্ড কমিশনারেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফ্রি-স্টাইলে দেয়া হচ্ছে বন্ড লাইসেন্স। দেশে সাড়ে ৬ হাজারের অধিক বন্ড লাইসেন্স থাকলেও কারখানা চালু রয়েছে হাজার তিনেক। বাদবাকী লাইসেন্স গুলো প্রকাশ্যেই অনিয়ম করলেও কেউ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এই অবৈধ লাইসেন্সগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান অত্যন্ত সোচ্চার। অনেকেই এ ব্যাপারে ইতিবাচক ফলাফল প্রত্যাশা করছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানও এ ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “বন্ডের অপব্যবহার আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এটা বন্ধ করতে চাই। এই জন্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ছাড়াও বন্ড কমিশনারেটকে অটো মেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।" জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অপর সাবেক চেয়ারম্যান ডঃ আব্দুল মজিদও একই ধরণের মতামত পোষণ করতেন। তিনি বলতেন, “বন্ড সুবিধার আড়ালে যে সব অপকর্ম হয় বা হচ্ছে তা বন্ধে দ্রুত অটোমেশন পদ্ধতি চালু করাই একমাত্র পথ।" রাজস্ব বোর্ডের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এমন উদ্যোগের পরেও কেন সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, শুধু কথার খৈ না ফুটিয়ে সংশ্লিষ্টরা যতো তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ততোই তা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নে মঙ্গল বয়ে আনবে।(চলবে)

প্রথম পর্বের লিংক:
বন্ড কমিশনারেটের জাহেরী দুর্নীতি থামালেই হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা-

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech