২০ বছরের আনুগত্য শেষে হত্যা

  

পিএনএস ডেস্ক : ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজী রাশেদ যাঁকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন, সেই ইউসুফ সরদার ওরফে সুন্দরী সোহেলই তাঁকে (রাশেদ) খুন করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তের পর নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। ইউসুফ বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। পুলিশ বলছে, ইউসুফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। রাশেদসহ বেশ কয়েকজন তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

রাশেদের মা রাবেয়া বেগম গতকাল সোমবার বলেন, রাশেদের বাবা আবুল হোসেন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক। রাশেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। এরপর থেকে তিনি ইউসুফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইউসুফের বাবাও সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালাতেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রাশেদ ও ইউসুফ দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা দেশে ফেরেন। এরপর থেকেই মূলত ইউসুফের দেহরক্ষী, ডান হাত হিসেবে কাজ করছিলেন রাশেদ। প্রতি মাসে কিছু টাকা রাশেদকে দিতেন ইউসুফ।

রাশেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ইউসুফের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন রাশেদ। ইউসুফ বাসা থেকে বের হয়ে নিজের কার্যালয়ে এসে রাশেদকে না পেলেই ফোন করতেন। গত রোববার ইউসুফের এই কার্যালয়ের ভেতরেই রাশেদকে খুন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

মহাখালী এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইউসুফ ওই এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। তাঁর সহযোগী হিসেবে রাশেদসহ অন্তত ১০ জন রয়েছেন। এলাকার কেবল টিভির ব্যবসা, ইন্টারনেট ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁরাই। এর আগে ইউসুফের বিরুদ্ধে একজন রিকশাচালক ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকে গুলি করারও অভিযোগ উঠেছিল। তবে তখন তিনি থানার পুলিশ ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছিলেন। ইউসুফ সরদার ও তাঁর সহযোগীদের আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী কাজী মৌসুমী। তিনি বলেন, এর আগেও রাশেদকে মারধর করেছিলেন ইউসুফ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চারজন মিলে লাশ রাস্তায় রাখছে এ রকম একটি আবছা ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। পুলিশ হত্যাকারীদের শনাক্ত করেছে। থানার পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, ইউসুফ সরদার ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।- প্রথম আলো

পিএনএস/ জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech