পাউবো’র টাস্কফোর্সের রহস্যজনক নীরবতাঃ নকল জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে শত শত কোটি টাকা লুটপাটঃ মন্ত্রণালয় ও দুদক করে কি?

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : পাউবো’র টাস্কফোর্স যেখানে পান থেকে চুন খসলেই হামলে পড়ে সেখানে পাউবো’র বিভিন্ন প্রকল্পের নকল জিও ব্যাগ প্রতিরোধে তাদের কোন অপারেশন নেই। মহা দাপটের সাথে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে কয়েকজন চিহ্নিত ঠিকাদার। এই ঠিকাদারদের সাথে মন্ত্রণালয়ের কারো কারো রয়েছে ব্যাপক দহরম মহরম।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পাউবো’র বিভিন্ন প্রকল্পের ভাঙ্গন রোঁধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং, এডিশনাল ডাম্পিং তথা প্লেসিং-এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই কাজের দরপত্রের স্পেসিফিকেশন তথা টার্মস এন্ড কন্ডিশনে পলিপ্রোপাইলিন ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে নকল মাল হিসেবে পলিস্টার ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, প্রতি পিস পলিপ্রোপাইলিন জিও ব্যাগের মূল্য তিন শত বিশ টাকা হলেও ব্যবহার করা হয়েছে এক শত পঞ্চাশ টাকা মূল্যের নকল মাল পলিষ্টার ফাইবার। অর্থ্যাৎ প্রতিটি ব্যাগে চুরি করা হয়েছে এক শত সত্তর টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতি লাখ ব্যাগে এক কোটি ৭০ লাখ টাকা চুরি করা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বিগত বর্ষায় একমাত্র ইমার্জেন্সী চলাকালেই প্রায় ১৩০ কোটি টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এই মহা চুরির ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কেউ কেউ অবহিত হলেও রহস্যজনক কারণে কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। তবে পাউবো’র বিভিন্ন ডিভিশনে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে এই নকল বা ভেজাল জিও ব্যাগ চিহ্নিত করতে না পারায় মাঠ পর্যায়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি বলে কয়েকজন প্রকৌশলী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। আবার কোন কোন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালীদের ঘন ঘন আতিথেয়তার সুযোগ পেয়ে নিজেদেরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করছেন। টাঙ্গাইলের পাশে যমুনা নদীর তীরে একটি ডিভিশনে জিও ব্যাগের দুর্নীতির বাইরেও আকাশ ছোয়া অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। কিন্তু তাদের টিকিটি কেউ স্পর্শ করতে পারেনি যদিও সংশ্লিষ্ট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’ টাইপের কয়েকটি পত্র চালাচালি করে নিজেকে নিরাপদ করেছেন মাত্র। ঐ ডিভিশনের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, জিও ব্যাগের টাকার লুটপাট বন্ধে পাউবো’র টাস্কফোর্সের ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, টাস্কফোর্সকে যখন অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল তখনই ভেজাল ও নকল জিও ব্যাগের অবাধ ব্যবহার করে লুটপাট চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিশাল অংকের টাকা লুটপাট হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং খোদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ ব্যাপারে পাউবো’র চীফ মনিটরিং এবং টাস্কফোর্সের আহবায়ক কাজী তোফায়েল হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি না।

পাউবো’র মহাপরিচালক অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকায় তাঁর মন্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech