গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোটেশন বাণিজ্যঃ দেখার কেউ নেই-

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক ডিভিশনেই কোটেশনের মাধ্যমে কাজের নামে চলছে লুটপাট, অনিয়ম, দুর্নীতি। বিশেষ করে ই/এম কাজে এই দুর্নীতির পরিমান অনেক বেশী। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে এখন পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সুনাম রয়েছে। দেশের অনেক সরকারী স্থাপনাই পিডব্লিউডি নির্মাণ করে থাকে যার গুণগতমান অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে কিন্তু সেই সংস্থার অনেক প্রকৌশলীই মেরামত কাজে দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। দেখা গেছে, পিডব্লিউডির অনেক মেরামত কাজেই ৬০% পর্যন্ত লুটপাট হয়ে থাকে যার এক বিরাট অংশ চলে যায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের পকেটে। তবে ২০১৯ইং সালে প্রণীত বিধিমালায় কোটেশনের মাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের ক্ষমতা অনেক সীমিত করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের মতে, বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী ৩ লাখ টাকা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৩০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত কোটেশনের মাধ্যমে কাজ করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। এখানে নির্বাহী প্রকৌশলীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে দৃশ্যতঃ এমন মনে হলেও বাস্তবে দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলীরা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বেশী টাকার কোটেশন অনুমোদন করিয়ে থাকে। এভাবেই কোটেশনের আশ্রয় নিয়ে লুটপাট চলছেই।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট অনেকের চোখই এখন রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের দিকে। এই প্রকল্পে যে লুটপাট হয়েছে সেই গল্প নিয়ে সকলেই মাতোয়ারা কিন্তু সারা দেশে কোটেশনের মাধ্যমে যে দুর্নীতি চলছে তা থামানোর কোন উদ্যোগ কোন কালেই গৃহীত হয়নি।

ভূক্তভোগীমহল মনে করেন, কোটেশনের মাধ্যমে সম্পাদিত কাজ যথাযথ ভাবে হয়েছে কি না তার দেখভাল করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স বা মনিটরিং সেল গঠন করা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জোরালো উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ইশারা ছাড়া এই ধরণের দুর্নীতি ও অনিয়ম হওয়ার কোন সুযোগ নেই বিধায় প্রধান প্রকৌশলীকে কড়া নির্দেশনা প্রদান করাও জরুরী।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech