মারধরের মামলা করায় বাদীকে কুপিয়ে মারল ‘যুবলীগ কর্মী’

  

পিএনএস ডেস্ক : রাজধানীর আদাবরে মামলা তুলে না নেয়ায় বাদীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের নাম মোহাম্মদ জুয়েল (৩০)। তিনি রাইড শেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল চালাতেন।

আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের ১০ নম্বর সড়ক সংলগ্ন একটি নর্দমায় নামিয়ে জুয়েলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী, যাদের বিরুদ্ধে মাস তিনেক আগে মারধরের অভিযোগে মামলা করেছিলেন তিনি।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহত জুয়েলের স্ত্রী আরজিনা বেগম বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেছে। মামলার আসামি করা হয়েছে মিজান ও খোকনসহ ১৭ জনকে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পরিদর্শক শাহিনুর রহমান বলেন, আসামিদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই তারা ধরা পড়বে।

জুয়েলের ছোট ভাই শাহিন বলেন, স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মিজান ও খোকনসহ বেশ কয়েকজন মাস তিনেক আগে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছিল। ওই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তার ভাই থানায় মামলা করেছিলেন। এরপর থেকেই মামলার আসামি মিজানসহ একাধিক ব্যক্তি মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এর জের ধরেই বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি জানান, আগের মামলায় সম্প্রতি পুলিশ খোকনকে গ্রেপ্তার করলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এর জের ধরেই তারা জুয়েলকে হত্যা করে।

পরিদর্শক শাহিনুর বলেন, জুয়েলের স্থায়ী ঠিকানা ভোলা জেলায়। সেখান থেকে অনেক আগে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বসবাস করেছেন। এরপর আদাবরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন।

আদাবর থানার এক উপ-পরিদর্শক জানান, হামলাকারীরা স্থানীয় একজন আওয়ামীলীগ নেতার ঘনিষ্ঠ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ওই নেতার নির্দেশনায় মিজান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এলাকায় বিভিন্ন কুকর্ম করে বেড়ায়। মিজানসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিশোধ নিতেই জুয়েল কে হত্যা করা হয়েছে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন