পাউবো’র নড়িয়া প্রকল্প এখন এক্সপেরিমেন্টাল গিনিপিগঃ কাজের গতি অতি মন্থরঃ জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন-

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষের কপাল পুড়লেও জনপ্রতিনিধিরা অনেক দিন এখানে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেননি। তবে বয়সে তরুণ হলেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমান পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এমপি-মন্ত্রী হওয়ার আগেই এই প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে প্রায়ই তিনি ছুটে যান তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। ঘন ঘন পরিদর্শন করেন প্রকল্প এলাকা। বছরের ৩৬৫ দিনের ২৪ ঘন্টাই তিনি প্রকল্পের কাজের ব্যাপারে আপডেট থাকেন। প্রয়োজনে দেন নির্দেশনা। এই প্রকল্পের ব্যাপারে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং পানি সম্পদ সচিবেরও আগ্রহের ঘাটতি নেই। এই প্রকল্প নিয়ে তারাও ভাবেন- নানামুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব বারবার প্রকল্প এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ে সিরিজ বৈঠক করে অনেক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন। পাউবো’র ডিজি থেকে প্রকল্প পরিচালক সকলেই এই প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রকল্প পরিচালক তো ঘর-সংসার বিসর্জন দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিবাগী প্রায়। কিন্তু এতো তোড়জোর, এতো ব্যস্ততা এবং পরিদর্শনের পরেও পাউবো’র নড়িয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেকটাই ধীরলয়ে চলছে। দেশপ্রেমিক নৌ-বাহিনীর নেতৃত্বাধীন খুলনা শীপইয়ার্ড এই প্রকল্পের উন্নয়ন অংশীদার বা ঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত থাকার পরেও কেন কাজ যথাযথ ভাবে হচ্ছে না তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা কাজ একবার ঝুকির মুখোমুখি হয়েছে। অতি দ্রুত কাজ সম্পাদন না হলে চলতি বছরের মে-জুন মাসে প্রতিরক্ষা কাজটি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। কাজটি কাদের গাফিলতিতে যথাযথ গতিতে হচ্ছে না তা সকলের জানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে না। উল্টো ভেরিয়েশনের নামে চুক্তি সংশোধন করে মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা চলছে। ভেরিয়েশনের নামে বিভিন্ন কায়দা ও কারসাজি করে মূল্য বৃদ্ধি পেলে সরকারী অর্থ লোপাট হতে পারে।

গতকাল এই প্রতিনিধি পাউবো’র চীফ মনিটরিং-এর অফিস কক্ষে বসে দীর্ঘ সময় প্রকল্প এলাকার চিত্র সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় পুরো এলাকায় কোন কর্মচাঞ্চল্য না থাকায় সেখানে উপস্থিত সকলেই একমত পোষণ করেন যে, এভাবে চলতে থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি অনাকাংখিত ভেরিয়েশন স্বাপেক্ষে মূল্যবৃদ্ধি করলেও সংশ্লিষ্টদের অনভিজ্ঞতা ও খামখেয়ালীর কারণে প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে পারে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, প্রকল্পটিকে কেউ কেউ এক্সপেরিমেন্টাল গিনিপিগে পরিণত করেছেন। বারবার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করা হচ্ছে। এভাবে ঘষামাজা চলতে থাকলে পদ্মার মতো আনপ্রেডিক্টেবল নদী যেকোন সময় ট্র্যাজেডী সৃষ্টি করতে পারে। লাখ লাখ মানুষের ভিটেমাটি আবার চলে যেতে পারে নদীগর্ভে।

গতকাল এই প্রতিনিধি খুলনা শীপইয়ার্ডের এমডি’র সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। খুলনা শীপইয়ার্ডের এমডি দাবী করেন, কাজের গতি স্বাভাবিক এবং যথাসময়েই কাজ সম্পাদিত হবে।

ভূক্তভোগীমহল এ ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন