পাউবোর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমালে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : করোনা বিপর্যয়ের দোহাই দিয়ে পাউবোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্ধ কমানো হলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞমহল গুরুত্বারোপ করেছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দেশের খাদ্য উৎপাদনে পাউবোর সেচ প্রকল্প এবং বাঁধগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মৌলভীবাজারের মনু নদী প্রকল্প, চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এবং চাঁদপুর ইরিগেশন প্রকল্প(সিআইপি), ফেনীর মুহুরী প্রকল্প, বরিশালের সাতলা-বাগদা প্রকল্প, তিস্তা সেচ প্রকল্প, জিকে প্রকল্প, দিনাজপুরের ডেপা সেচ প্রকল্প, বেড়া সেচ প্রকল্প, বরিশাল ইরিগেশন প্রজেক্ট (বিআইপি) সহ আরো অনেকগুলো সেচ প্রকল্পের কারণে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় যা খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি দেশের হাওড় অঞ্চলের জেলাগুলোতে পাউবোর বাঁধের কারণেই বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়ে থাকে। এছাড়া, পাবনার চলনবিল এবং গোপালগঞ্জের বর্ণি বাওড় প্রকল্পের মতো কতোগুলো প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়ে থাকে। এগুলো খাদ্যশস্যের প্রাকৃতিক গোডাউন হিসেবে বিবেচিত। এই সমস্ত প্রকল্প চলমান রাখতে হলে সন্নিহিত এলাকার নদী তীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, দেশের নদী তীরের সুরক্ষায় গৃহীত প্রকল্প শুধু নদীর ভাঙ্গন মোকাবিলা করে না বরং সন্নিহিত অঞ্চলের ফসল, প্রাণী বৈচিত্র্য, কল-কারখানা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে শুরু করে মানুষের জীবনও রক্ষা করে থাকে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধের প্রয়োজন ভাতের চেয়েও বেশী। উপকূলীয় অঞ্চলে একটি জনপ্রিয় শ্লোগান হচ্ছে, "ভাত নয়, বাঁধ চাই"। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এই সত্যকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে। ইতিপূর্বে, ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছিল। পরবর্তীতে পাউবোর সিইআইপি প্রকল্প উপকূলে আশানুরূপ ফল লাভে ব্যর্থ হয়েছে। সিইআইপি প্রকল্পের কর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং পাউবোর মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের মনিটরিং না থাকায় প্রকল্পটি ক্ষেত্রবিশেষে উপকারের পরিবর্তে অপকার বয়ে এনেছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সিইআইপি প্রকল্পের অব্যবস্থাপনা এবং অতি মাত্রায় কনসালটেন্ট নির্ভরতার কুফল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যদিও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাউবো এখনো বিষয়টি খতিয়ে বা তলিয়ে দেখেনি। অতি দ্রুততম সময়ে এই প্রকল্পের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা সমধিক।

অভিজ্ঞমহল করোনাকালে কোনক্রমেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্ধ না কমানোর আহবান জানিয়েছেন। তারা আরো মত প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন বাজেটে পাউবোর উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি মেরামত ও সংস্কার খাতে অধিক বরাদ্ধ অত্যন্ত জরুরী। তা না হলে দেশে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন