করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন ভাতাদি পাবে না- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা-

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : আষার-শ্রাবণের বৃষ্টির রিমঝিম ধ্বনি যখন বাংলার মানুষের মনে কাব্যিক ছন্দ জাগ্রত করে তখন একটি সংস্থার মানুষের বুক কেপে উঠে। তখন ঘন মেঘে শুধু আকাশই কালো হয় না। বরং সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন বেদনাসিক্ত হয়। চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। ঝড়-জলোচ্ছ্বস-বৃষ্টি দেখলে সরকারী-বেসরকারী সকল লোকজন দ্রুত ঘরে ফিরে। স্ত্রী-সন্তানদের সান্নিধ্যে চলে যায়। অথচ সরকারের একটি সংস্থার লোকজন মাঝরাতে প্রিয়জনের উষ্ণ সান্নিধ্যকে উপেক্ষা করে ছুটে চলে নদী তীরে-সাগরের মোহনায়। নদীর তীর রক্ষায়-বাঁধ রক্ষায় দিবানিশি মরণপণ লড়াই করে। করোনাকালে সবাই যখন সামাজিক দূরত্বের দোহাই দিয়ে অফিসকে নিরাপদ আস্তানা বানানোর সংগ্রামে লিপ্ত তখন এই সংস্থার লোকজন নদী তীরে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের সাথে গা ঘেষাঘেষি করে বাঁধ রক্ষা করছে। রক্ষা করছে শহর, নগর, গ্রাম, জনপদ। রক্ষা করছে স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, ঘর-বাড়ী, ফসলের মাঠ, যোগাযোগ অবকাঠামো। করোনাকালে মাঠ পর্যায়ে ভীষণ ব্যস্ত এই সংস্থার নাম পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় থাকা মন্ত্রণালয়ের নাম পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনাকালীন ভাতার বাইরে রয়েছেন যা একেবারেই অমানবিক। সাধারণ অনেক সংস্থা বা দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে ক্ষতিপূরণ বা ভাতা পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। সেখানে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও তারা কেন ভাতা পাবেন না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, করোনাকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে বাপাউবোর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠেই রয়েছেন। ঈদ এবং রোজায় ছুটি বাতিলসহ কার্যস্থলে অবস্থানের নির্দেশনা থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন স্ত্রী-সন্তান তথা বৃদ্ধ পিতা-মাতার মুখটা পর্যন্ত দেখতে পারছেন না। এতে করে সাংসারিক অশান্তি পর্যন্ত নেমে আসছে। এই প্রতিবেদকের পরিচিত একজন প্রকৌশলীর স্ত্রী রাগ করে তার স্বামীকে বলে দিয়েছেন, ‘যাও, তোমাকে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে নামে লিখে দিলাম।’ এতো কিছুর পরেও কেন পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে ভাতাদি পাবে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই পানি সেক্টরকে অনেক ভালবাসেন। তার ভালবাসা থেকেই ডেল্টা প্ল্যান কর্মসূচী ঘোষিত হয়েছে। তিনি পানি সেক্টর সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন এবং নদ-নদী সম্পর্কে অনেক জ্ঞান রাখেন। সুতরাং যথাযথ প্রস্তাবনা উপস্থাপিত হলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাউবোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনাকালীন ভাতা পেতে পারেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ভূক্তভোগীমহল এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন