বিশ্বের উদীয়মান শক্তিশালী মুদ্রা ভাণ্ডারে বাংলাদেশ

  

পিএনএস : বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের নেতৃত্বে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) গঠনে ২১ দেশ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এর মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশও যোগ দিয়েছে এশিয়ার উদীয়মান এই শক্তিশালী মুদ্রা ভাণ্ডারে।
নতুন এ ব্যাংক গঠন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি সংস্থার উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকটি তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর যেকোনো মেগা প্রকল্পে অর্থপ্রাপ্তির নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত এআইআইবি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন সরকার। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ, সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছে সদস্যদেশগুলো। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ ও আইডিবির সদস্য। এসব সংস্থা থেকে ঋণও পাচ্ছে বাংলাদেশ।



এ জন্য বাংলাদেশ ওই ব্যাংকের সদস্য হওয়ায় অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এআইআইবি তো দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে। আমাদের এত বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন যে, আমরা এআইআইবির সদস্য হলে এডিবি মোটেই আমাদের ওপর মন খারাপ করবে না। সে কারণে তাদের সঙ্গেও সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে না।’



ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকবে চীনের হাতে। এর ফলে কর্তৃত্বও থাকছে দেশটির হাতে। এ প্রসঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘একটি দেশের হাতে যখন কর্তৃত্ব থাকবে তখন ব্যাংকটির ঋণ প্রদানে বৈষম্য দেখা যেতে পারে। ব্যাংকটি ঠিকমতো কাজ করলে এশিয়া অঞ্চলের মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থপ্রাপ্তির নতুন ঠিকানা হবে। তবে বিশ্বব্যাংক বা এডিবির মতো সহজ শর্তে ঋণ দেবে কি না, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না।’



নতুন এ ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নত দেশ হতে হলে অবকাঠামোগত উন্নতি হতে হবে। সেই হিসেবে এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়নের যে চাহিদা রয়েছে, তাতে এ ধরনের অর্থায়নের উৎসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
চীন এখন বিশ্বের সবচেয়ে অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। এতে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকটি চীনের উন্নয়ন আরো ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সদস্যদেশেরও ব্যাপক পরিবর্তন হবে। আর অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে চীনের নিকট প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের দেশে বিনিয়োগ করবে, যা দুই দেশের জন্য ইতিবাচক।’
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী আগামী বছরের মধ্যে ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এর সদর দফতর হবে বেইজিংয়ে। প্রাথমিক অবস্থায় বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সড়কের উন্নয়নসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগে মনোযোগী হবে সংস্থাটি।

পিএনএস/দোজা/মো: সাইফুল্লাহ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech