ব্যাংকি খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ - অর্থনীতি - Premier News Syndicate Limited (PNS)

ব্যাংকি খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ

  

পিএনএস ডেস্ক: বর্তমানে ব্যাংকিং পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ নানান ধরনের কথা-বার্তা বলা শুরু করেছে। লোকজন বলে, ব্যাংক লুটেরাদের জন্যই মনে হয় দেশটা স্বাধীন হয়েছে। এমনটিই মনে করছেন সরকারের এক মন্ত্রী। তাই ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির এবং কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বর্তমান ব্যাংকিং পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়। ফারমার্স ব্যাংকে সরকারের সরকারি ব্যাংকের বিনিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয় সভায়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার একপর্যায়ে ওই মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ নানান ধরনের কথা-বার্তা বলতে শুরু করেছে। লোকজন বলে ৫ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে শোধ করে না। মনে হয় দেশটা তাদের জন্যই স্বাধীন হয়েছে। তাই ব্যাংকি খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন এ মন্ত্রী।

বৈঠকে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এত বেশি পরিমাণে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান আপত্তি জানালে বৈঠকে বলা হয়, আগামী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা রাখা হচ্ছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এ লক্ষ্যমাত্রা সরকার অর্জন করতে চায়।

পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তাছাড়া আগামী বাজেটে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের টার্গেট থেকে প্রায় ৩২ ভাগ বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ধরা হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ খেকে ইতোমধ্যে সরকারকে বলা হয়েছে, সংস্থাটি ৭৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে। এরই অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরে ছাড় করা হবে ২৫ কোটি ডলার। প্রায় এক যুগ পর বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আবারও বাজেট সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতু টেন্ডারের দুর্নীতির অভিযোগ আনার পর থেকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সহায়তা আর দেয়া হয়নি।

আগামী অর্থবছরে বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য যে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে সেটি দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে পুনর্বাসন করা হবে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। নৌবাহিনীকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত। গত নভেম্বর মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পুনর্বাসন করা হবে। ১ লাখ ৩ হাজার ২০০ মানুষের বসবাসের জন্য ১২০টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ভাসানচরের অভ্যন্তরে সড়ক, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, নলকূপ বসানোসহ যাবতীয় অবকাঠামো তৈরি করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech