গ্রাহকের টাকা হরিলুটের আরেক নাম পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স!

  

পিএনএস (জে এ মোহন) : গ্রাহকের মূল টাকাই ফেরত দিচ্ছে না বীমা কোম্পানি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স। গ্রাহকদের টাকা আত্নসাৎ করার এ এক হরিলুটের নাম পপুলার লাইফ। মেয়াদ শেষ হলেও টাকা পরিশোধ নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা। আবার অনেক সময় পরিশোধ করলেও পাচ্ছেন না মূল টাকাও। এতে দেখানো হচ্ছে আইনি নানা জটিলতা।

গ্রাহকরা কষ্টার্জিত অর্থ বীমা কোম্পানিতে রাখছেন সঞ্চয়ের আশায় অথচ মেয়াদ শেষে কোম্পানিগুলো অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সাধারণ মানুষ বীমা করেন ঝুকি মোকাবিলা এবং বৃদ্ধ বয়সের সঞ্চয়ের জন্য। কিন্তু ঝুঁকি থেকে যায় মূল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও। মেয়েদ শেষে মূল টাকাই ফেরত পাচ্ছেন না বীমা গ্রাহকরা! এমন অভিযোগ বেসরকারী মালিকানাধীন জীবন বীমা কোম্পানি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের অসংখ্য গ্রাহকের।

সরেজমিন গেলে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার সৈয়দ আজাদ হোসেন নামক পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের এক গ্রাহক পিএনএসকে জানান, তিনি ১০ বছর মেয়াদী জীবন বীমা করেছেন। মেয়াদ শেষে তাকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০০টাকা। জমা দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। জমাকৃত মূল টাকার চেয়েও ১১ হাজার ৫০০টাকা কম পেয়েছেন। কপাল ভালো তিনি কিছুটা হলেও ফেরত পেয়েছেন।

সৈয়দ আজাদ হোসেন বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে এই টাকা পেয়েছি। অনেক গ্রাহক মেয়াদ শেষে কোনো টাকা পাচ্ছেন না। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরছেন অফিসে।

এ বিষয় কুলাউড়া শাখা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার এখানে এ রকম কিছু গ্রাহক আছে, তবে বেশির ভাগ গ্রাহকে কিছু না কিছু দিতে পেরেছি। এখন হয়তো ৫-৬ জন এমন রয়েছে। মূল টাকা ফেরত পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ রয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে।কিন্তু কোম্পানির সিদ্ধান্তের বিষয়ে তো আমরা কিছু বলতে পারছি না। আপনার ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করেন।

এ বিষয় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আলমগীর ফিরোজ পিএনএসের রের্কডার অন অবস্থায় কথা বলতে চাননি। তবে আলোচনার এক পর্যায় তিনি বলেন, অনেক ফাইল দীর্ঘদিন যাবৎ আটকে আছে। নামের মধ্যে অনেক ভুল থাকে। ‘আব্দুর রহিম’ নামে বীমা করেছেন দেখা যায় ‘আব্দুর রহমান’ নামে জমা দিয়েছেন। এই সমস্যাগুলোর সঠিক তথ্য যাচাই করতে সময় লাগে।

অনেক গ্রাহক মূল টাকার চেয়েও কম পাচ্ছেন- এমন প্রশ্নে বলেন, এ রকম নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নিয়ে গ্রাহক আমাদের কাছে আসলে আমরা তা ঠিক করে দিই। বিষয়টি দেখা যায় অনেক সময় জমাকৃত টাকার দুয়েকটা রসিদ ভুলে আসে না। সেক্ষেত্রে হয়তো গ্রাহক টাকা কম পাচ্ছেন। তবে এ বিষয় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি এই কর্মকর্তার কাছ থেকে।

লাভের আশায় বীমা করেন অথচ তাঁরা মূল টাকা ফেরত না পায়- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি এরকম নির্দিষ্ট কোনো গ্রাহক থাকেন, তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসলে আমরা তা ঠিক করে বাকি টাকা দিয়ে দিই।

এ বিষয় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের এডমিন অসুক কুমার বলেন, লোকাল অফিস থেকে যে সকল কাগজ পাঠানো হয়, সেখানে অসংখ্য ভুল থাকে। আমাদের কাছে আসলে ফাইল আটকা পড়ে না। অনেক সময় সব কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয় না। সে কারণে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব হয়।

অনেক গ্রাহক মূল টাকার চেয়েও কম পাচ্ছেন- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আসলে যে অফিসে এই সমস্যা হয়েছে, তারা আসলে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিকাংশ কোম্পানির বিরুদ্ধেই গ্রাহকের টাকা পরিশোধ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম করে কোম্পানি, কিন্তু তার মাশুল দিতে হয় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে। অনেক গ্রাহক সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এভাবে। তবে কোনো গ্রাহক যদি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে আমরা কোম্পানিকে চাপ প্রয়োগ করি টাকা পরিশোধ করতে। তিনি বলেন, এসব প্রতারণার মূল কারণ হচ্ছে বীমা কর্মীরা সঠিক তথ্য দেয় না গ্রাহকদের। এবং বীমা কর্মীদের কোনো আইডি কার্ড নেই। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় সাধারণ মানুষ তাদের মাধ্যমে প্রতারিত হলেও আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বীমা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশে দু’চারটি বীমা কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ জীবন বীমা কোম্পানিই মেয়াদ শেষে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করতে অনিয়ম করছে। এতে বীমা খাতের যেমন ইমেজ সংকট দেখা দিচ্ছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বীমার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। এ সমস্যার জন্য ব্যবস্থাপনা ব্যয়কে দায়ী করলেন তিনি।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech