এবার ঈদেও পর্যটকশূন্য রাঙামাটি

  

পিএনএস ডেস্ক : পর্যটকশূন্য এখন রাঙামাটির পর্যটন। প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও এবার ছিল ভিন্ন চিত্র। তাই এখন রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের বড়ই অভাব। পাহাড়ে বিভিন্ন পর্যটন স্পট থাকলেও তা এখন জনশূন্য। গত ১২ জুন পাহাড় ধসের ঘটনার পর একেবারে শূন্য রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, ডিসি বাংলো, পলওয়েল লাভপয়েন্ট ও সুখী নীলগঞ্জসহ বিভিন্ন স্পট। তবে কিছুসংখ্যক স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরকে ওই পর্যটন স্পটে চোখে পড়লেও নেই কোন দেশি-বিদেশী পর্যটক। তাই কর্মহীন অলস সময় কাটাছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, রাঙামাটিতে রয়েছে সবুজ পাহাড়ের নান্দনিক সৌন্দর্য। আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাজেঁ আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজারো পাহাড়ি ঝর্ণা। এসব দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। তাই একটা সময় ঈদ, পূজা কিংবা সব মৌসুমে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে থাকতো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে পাহাড়ে গড়ে উঠেছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। তার মধ্যে-আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় স্থান হচ্ছে-ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, সুখী নীলগঞ্জ, বরগাঙ্গ, উপজাতীয় জাদুঘর, রাজবন বিহার, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধ ও কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়কসহ বিভিন্ন পর্যটনস্পট উল্লেখযোগ্য।

এসব কেন্দ্র করে রাঙামাটি পর্যটন হয়ে উঠেছে পার্বত্যাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক খাত। আধুনিক হোটেল-মোটেলের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসায় জড়িয়েছে। তাই পর্যটক আসলেই প্রাণ পায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব আশাই যেন ভেস্তে গেছে। বৃষ্টি দেখলে পাহাড় ধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে রাঙামাটিতে। সে আতঙ্কে পর্যটক আসে না পাহাড়ে বলে জানালেন পর্যটন রাঙামাটি নৌ-যান ঘাটের ম্যানেজার মো. রমজান আলী। তিনি বলেন, গত দেড় বছর ধরে রাঙামাটিতে পর্যটকদের উপচেড়া ভিড় জমে না। আগের মত প্রাণবন্ত হয়ে উঠে না রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদও। তাই ভাড়াও হয় না নৌ-যানগুলো। পর্যটক না আসলে বেকার থাকে ট্যুরিস্ট বোর্ট চালকরা।

একই অভিযোগ রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সূর্যসেন ত্রিপুরা। তিনি বলেন, পর্যটক না থাকলে পর্যটন রেস্টুরেন্টগুলো খালি পড়ে থাকে। সারাদিন অলসতায় কাটে সময়। এতে পর্যটন ব্যবসায় নেমেছে ধস।

এব্যাপারে রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সর ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, পর্যটকদের বরণ করতে রাঙামাটি পর্যটন করর্পোরেশন প্রস্তুত ছিল। আশা করে ছিলাম এবার ঈদের বন্ধের সময় রাঙামাটিতে পর্যটকের ঢল নামবে। কিন্তু পাহাড় ধসের আতঙ্কের কারণে অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করেছে। তবে স্থানীয় ও আশেপাশে জেলার কিছু কিছু পর্যটক এসেছে। কিন্তু ভেবেছিলাম সরকারি বন্ধ ও ঈদের লম্বা ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা একটু ক্লান্তি দূর করতে ছুটে আসবে সবুজ পাহাড় ও নদী ঘেরা মনোরম প্রকৃতিতে। কিন্তু টানা বৃষ্টির রাঙামাটিতে ছড়িয়ে পরেছে পাহাড় ধসের আতঙ্ক। তাই হয়তো পর্যটকরা কিছুটা ভয়ে আসেনি রাঙামাটিতে।

অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভেবেছিল, ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে এসব বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটকদের লম্বা কর্মজীবনের নানা টানাপোড়ন জনিত জটিলতা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও আনন্দ আর উচ্ছলতায় ভরে উঠবে, ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে তাদের টানা বিরক্তি, ক্লান্তি ও ক্লেষ জণিত কর্মময় জীবনের অবসান। আর এর মধ্য দিয়েই দীর্ঘ নীরবতা ভঙ্গ করে এ অঞ্চলটি আবারো পর্যটকদের ভিড়ে কোলাহলমুখর হয়ে উঠবে। কিন্তু তবে বর্তমানে রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড় ধসের অস্থিরতার ধকল এখন ব্যবসায়িক অঙ্গন দিয়েও যাচ্ছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল



 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech