পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে প্র‌তি‌দিন হাতিয়ে নিচ্ছে ৫০ কো‌টি!

  

পিএনএস ডেস্ক: পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে একটি চক্র ক্রেতাদের থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কনসাস কনজমার্স সোসাইটি (সিসিএস) নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনটির দাবি, কারসাজি চক্র প্রতিদিন যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সেই টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

রবিবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটি জানায়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে চার মাসে ৩ হাজার ১৭৯ কো‌টি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র।

এ সময় সংগঠনটি ‘দ্রুত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পেঁয়াজের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণের’ দাবি জানান।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি খুচরা বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে সেটি ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম বলেই আমরা জেনেছি। এমনকি দেশের কোথাও কোথাও পেঁয়াজ এখন হালি দরেও বিক্রি হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

পলাশ বলেন, পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীরা মূলত দুটি যুক্তি উত্থাপন করছেন। একটি হচ্ছে সরবরাহ কম এবং অন্যটি হচ্ছে আমদানি খরচ বৃদ্ধি। কিন্তু পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধির সময়কাল লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাদের দুটি যুক্তি শুধুমাত্র অজুহাত ও ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার কৌশল মাত্র।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারত পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ও রফতানি বন্ধ ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ানো হয়। এখানে লক্ষণীয় যে ভারত যেদিন দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় তার পরদিনই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। যদিও একদিনের মধ্যেই বর্ধিত দামের পিয়াজ বাংলাদেশে আসা সম্ভব নয়। এমনকি বর্ধিত দামে কোনো এলসিও খোলা হয়নি। এর পরপরই ভারত রফতানি বন্ধ করে। ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু দেশের বাজারে সর্বত্র এখনো ভারতীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের এই পেঁয়াজ কম দামে আগেই কেনা ছিল এবং যথেষ্ট সরবরাহ ছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ লাখ মেট্রিক টন এর চাহিদা দেশী পেঁয়াজে পূরণ হয়। কোনো দেশ রফতানি বন্ধ করলে দেশী পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধ হওয়া বা কমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমদানি খরচ বৃদ্ধির অজুহাতেও প্রযোজ্য নয়।

আমরা মনে করি, সরবরাহ কোম্পানি খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিন্ডিকেটের হাত থেকে ভোক্তাকে মুক্ত করার জন্য এ সময় চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে-

১। দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পেঁয়াজ এর সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা।

২। যে কোনো পণ্যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য ঘোষণা করা।

৩। পণ্য বা সেবার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে অংশীজনদের নিয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরে একটি সেল গঠন ও সর্বক্ষণিক তদারকি করা।

৪। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের মতো মূল্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech