বন্দরে পণ্য উঠা নামা বন্ধ

  

পিএনএস ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড়‘বুলবুল’মোকাবেলায় চট্টগ্রামে বন্দর জেটি থেকে সব জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্য-উঠা নামার কাজও। এছাড়া চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকবে ১৪ ঘণ্টা।

শনিবার অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সচিব ওমর ফারুক বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পণ্য উঠা নামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জেটি থেকে সরিয়ে সব জাহাজকে বর্হিনোঙরে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় ৪৭৯টি স্থায়ী সাইক্লোন সেন্টার এবং চার হাজারের মতো স্কুল কলেজের পাকা ভবন উপকূলের লোকদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বিপদ সংকেত ৯-এ ওঠার পর থেকে উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং চলছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৬০ আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অধিক ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ১০২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ভবনগুলোও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে ১ হাজার ৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবারও মজুদ করে রাখা হয়েছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বৌদি চাকমা জানান, সন্দ্বীপে ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে চেষ্টা চলছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদ জানান, আনোয়ারায় ৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে লোকজনকে উপকূল এলাকা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে চেষ্টা চলছে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি টিম কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন।

উপকূল ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খুলেছে তারা। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন