এখনও চলছে অনুমোদনহীন অবৈধ ক্যাম্পাস অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  

পিএনএস:অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মালিকানা দ্বন্দ্ব আপাতত নিরসন হলেও এখনও চলছে অনুমোদনহীন অবৈধ ক্যাম্পাস। এসব অননুমোদিত ক্যাম্পাস চলছে পৃথক পৃথকভাবে। দৃশ্যত প্রফেসর ড. আনোয়ারা বেগমের নেতৃত্বাধীন ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যলয়টি পরিচালিত হচ্ছে মনে হলেও বাস্তবে তিনটি পক্ষ পৃথকভাবে ক্যাম্পাসগুলো পরিচালনা করছে। ফলে মালিকানা দ্বন্দ্ব অবসানের ছয় মাস পার হলেও স্থিরতা আসেনি উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানটিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর পান্থপথ ও পুরানা পল্টন পরিচালনা করছে ট্রাস্টি সদস্য জুনায়েদ আহম্মদ। মিরপুর ও উত্তরার ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে বর্তমান সহ-উপাচার্য ও পৃথক ট্রাস্টি থাকাকালীন মালিক দাবিদার আবুল হোসেন শিকদার। তবে বনানীর মূল ক্যাম্পাস মূল ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির মিরপুর ও উত্তরা ক্যাম্পাসের বিরুদ্ধে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমেরিকা-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির সনদ বাণিজ্যে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করার একটি অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসে। বিষয়টি অতিরিক্ত সচিব সালাউদ্দিন আকবরের তদন্তাধীন আছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি সদস্য গোলাম সারোয়ার কবির বলেন, এ রকম সনদ বণিজ্য বা সনদ বাণিজ্যে সহযোগিতায় অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় জড়িত নয়। আমরা এমনকি বিতর্কিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ভর্তি করাচ্ছি না।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতেও অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায় পাঁচটি অননুমোদিত
ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির নির্দেশ অমান্য করে পাঁচটি অননুমোদিত ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে উত্তরার ১১নং সেক্টর, উত্তরার ৬নং সেক্টর, পান্থপথ, মিরপুর-১ ও পুরানা পল্টন ক্যাম্পাস।
এসব অননুমোদিত ক্যাম্পাস বন্ধ করতে ইউজিসি গত মে মাসে নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ততা বন্ধ করা হয়নি। ওই সময় ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ারা বেগম ও অপর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ ইসরাফিল আলমের সঙ্গে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউজিসি সিদ্ধান্ত দেয়-বিশ্ববিদ্যালয়টির সব অননুমোদিত অর্থাত্ উত্তরা, পান্থপথ, মিরপুর ও পল্টন ক্যাম্পাসে ছাত্র ভর্তি বন্ধ থাকবে। এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে।
এ বিষয়ে গোলাম সারোয়ার কবির বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মিরপুর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিচ্ছি। আর পল্টন ও পান্থপথ ক্যাম্পাসের অনুমোদনের জন্য ইউজিসির কাছে আবেদন করেছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোনো শাখা ক্যাম্পাস রাখার বিধান নেই। যেহেতু ড্যাফোডিল, ইউরোপিয়ানসহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে সুতরাং আমরাও শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার কথা ইউজিসিকে জানিয়েছি। আর উত্তরা ক্যাম্পাসে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অননুমোদিত ক্যাম্পাসে পাঠদান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করায় বার কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় অংশ নিতে দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোলাম সারোয়ার কবির।

এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, অননুমোদিত ক্যাম্পাস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাদের সুপারিশ করেছি। তবে অননুমোদিত এই ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করা হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তাদের ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বা ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রাখা হবে বলে জানান তিনি।
ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে সাময়িক অনুমোদন পাওয়া অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় অতীশ দীপঙ্কর ফাউন্ডেশনের অধীনে। ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য। তিনি ২০১১ সালে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকায় ট্রাস্টি সদস্য ও আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ ইসরাফিল আলম এবং সহ-উপাচার্য আবুল হোসেন শিকদার ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর আরেকটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের নিয়ে এই ট্রাস্টি গঠন করেন তারা। দীর্ঘদিন দুটি ট্রাস্টি বোর্ড পৃথকভাবে কার্যক্রম চালানোর পর সর্বশেষ গত মে মাসে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে মালিকানার দ্বন্দ্ব তত্ত্বীয়ভাবে মীমাংসা হয়।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech