কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতার ওপর হামলাকারীদের বিচার দাবি

  

পিএনএস : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র এপিএম সোহেলের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন আন্দোলনের নেতারা। একই সঙ্গে চাকরিতে শতভাগ মেধায় নিয়োগের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারি করারও আহ্বান জানানো হয়।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহত জবি শিক্ষার্থী এপিএম সোহেল বলেন, ‘আমি সেদিন পরীক্ষা দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফিরছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে আমার ওপর হামলা চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল গ্রুপের ১০ থেকে ১২ জন কর্মী। এদের মধ্যে আমি চারজনকে চিনতে পেরেছি। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি শোভন। হামলায় অংশ নেন এস কে মিরাজ, মিনুল মাহফুজ, বাবু। এরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী। আমার ওপর তারা প্রকাশ্যে হামলা করে। তার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তাহলে তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? আমি তাদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই সোহেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার বিষয়ে এর আগেও পুলিশের কাছে আমরা জিডি করতে গেলে তারা তা নেয়নি। আমরা আমাদের জীবন নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে আছি। কিছুদিন ধরে মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে হাসান আল মামুন বলেন, ‘মহান জাতীয় সংসদে আপনি সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের যে যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন, ছাত্রসমাজের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সেটার প্রজ্ঞাপন দিন। ছাত্রসমাজকে প্রজ্ঞাপনের জন্য আর রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। এবার ছাত্রসমাজ রাজপথে নামলে কিন্তু সারা দেশ অচল হয়ে যাবে। কারণ দেশের সব বিবেকবান মানুষ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে।’

মামুন বলেন, সম্প্রতি পাঁচটি জেলার নামের বানান সংশোধন করার প্রস্তাবের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাহলে কোটা বাতিল নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণার পরও এত দিনেও কেন প্রজ্ঞাপন জারি হলো না? সংবিধানের কোথাও বলা নাই যে সরকারি চাকরিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কোটা দিতে হবে।

গত ২৪ মে সন্ধ্যার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেলকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি কর হয়। এ ঘটনায় সোহেল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরুখ আলম শোভন, এস কে মিরাজ, মিনুল মাহফুজ ও বাবুসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলাও দায়ের করেছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech