হাতুড়িপেটায় আহত তরিকুল যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে

  


পিএনএস ডেস্ক: ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্র তরিকুল ইসলামের ব্যথা আরো বেড়েছে। তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তার পুরো শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণা। অন্যের সাহায্য ছাড়া একা কিছুই করতে পারছেন না। কয়েকজন মিলে ধরে তাকে সহযোগিতা করতে হচ্ছে। তরিকুল বর্তমানে রাজশাহী নগরীর রয়্যাল হাসপাতালের ৬০৩ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তরিকুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তার বাড়ি গাইবান্ধা। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম (৬২)। তরিকুলরা দুই ভাই ও এক বোন। তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তরিকুল। গত সোমবার (২ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে রাস্তায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া হামলা ও হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত হন তিনি। তরিকুল কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ওই দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণে চাপাতি হাতে দেখা গেছে ছাত্রলীগ কর্মী লতিফুল কবির মানিককে। হাতুড়ি হাতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুনকে। বিভিন্ন ছবিতে বাঁশের লাঠি হাতে সবার সামনে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান মিশু। বিভিন্ন ছবিতে তরিকুলকে মারধরে তাদের আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। এরা ছাড়াও আক্রমণে মূল ভূমিকায় আরো অনেকে ছিলেন। পরে পুলিশ ও সাংবাদিক মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে।

তরিকুলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে গতকাল যোগাযোগ করা হলে শয্যাপাশে থাকা তরিকুলের বোন ফাতেমা খাতুন বলেন, আগের দিন শুক্রবার তার (তরিকুল) ব্যথা সামান্য কমেছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু না, আজ (গতকাল শনিবার) তার ব্যথা আরো বেড়েছে। পুরো শরীরে প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি। অন্যের সাহায্য ছাড়া একা কিছুই করতে পারছেন না।

আহত তরিকুল সাংবাদিকদের বলেন, অসহ্য ব্যথা। সহ্য করতে পারছি না। ব্যথার কারণে আমার পায়ের ‘প্লাস্টার’ খোলা হয়েছিল। প্লাস্টারটা যখন খোলা হয় তখন দেখি আমার পা এক দিকে হেলে পড়েছে। পায়ের অবস্থা আগের মতোই আছে। কোনো উন্নতি হয়নি।

তরিকুলের বোন ফাতেমা আরো বলেন, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছে তরিকুলের বন্ধু, বড় ভাই ও সহপাঠীরা। এছাড়া যারা তাকে দেখতে আসছে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ কিছু সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পারিবারিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তিন ভাইবোন সবাই পড়াশোনা করি। আমাদের পক্ষে এত টাকা ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তির পর এখানকার চিকিৎসক তরিকুলকে দেখে কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন। সেগুলোর রিপোর্টও ইতোমধ্যে এসেছে। রিপোর্টগুলো চিকিৎসককে দেখানো হবে।

সহপাঠীরা জানান, তরিকুলের মেরুদণ্ডে এখনো প্রচণ্ড ব্যথা করছে। চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গিয়ে থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে।

তরিকুলের চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসক সাঈদ আহমেদ বাবু এর আগে জানান, তরিকুলের ভেঙে যাওয়া ডান পা জোড়া লাগতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তার এক্স-রেসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। এখন রিপোর্ট পেলে জানা যাবে হাসপাতালে তাকে কতদিন থাকতে হবে বা অস্ত্রোপচার করতে হবে কি না।
তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, তরিকুলের পায়ে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই সময় হাসপাতালে এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তরিকুলের ডান পা ভেঙে গেছে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। নয়টি সেলাই পড়েছে মাথায়। কিন্তু সরকারি বৃহৎ এই হাসপাতালটিতে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নেয়ার সুযোগটুকুও তাকে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তরিকুলের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, এক প্রকার জোর করেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়া হয়।

লোহার হাতুড়ি দিয়ে হাড় ভেঙে দেয়া তরিকুলকে রামেক হাসপাতাল থেকে জোর করে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম ও বোন ফাতেমা খাতুন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরিকুলকে জোর করে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech