বিতর্ক এড়াতে পরীক্ষা নেওয়ার সময় কমিয়ে আনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

  

পিএনএস ডেস্ক : পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা আর অপপ্রচার থেকে রেহাই পেতে পরীক্ষা নেওয়ার সময় কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলপ্রকাশ ও পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরীক্ষা নিতে যত সময় নিয়েছেন, রেজাল্ট দিতে কিন্তু তত সময় নেননি। তাই পরীক্ষার সময়টা এত দীর্ঘ না করে এটাকে আরও একটু কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। তাহলে কিন্তু ছেলে-মেয়েরাও পড়ালেখা করবে, পরীক্ষাটাও তাড়াতাড়ি হবে। আর বিভিন্ন ধরনের কথা, অপপ্রচারের হাত থেকেও মুক্ত হওয়া যাবে।’

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন। পরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসাইন।

এ বছর গত ২ এপ্রিল শুরু হয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে ১৩ মে পর্যন্ত। এরপর ১৪ থেকে ২৩ মে’র মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। এর ৫৫তম দিনে প্রকাশ করা হয় ফল।

স্বল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সময় কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি।

কিভাবে পরীক্ষার সময়টা কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পরীক্ষার সময়টা যদি কমিয়ে আনা যায় তাহলে দেখবেন, বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা, রিউমার (গুজব) ছড়ানো, বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার করা— এগুলো কিন্ত কমে আসবে। কাজেই সেদিকে একটু লক্ষ রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি, তখন তো আমাদের দুই বেলা করে পরীক্ষা দিতে হতো। সকালে এক পরীক্ষা, বিকেলে আরেক পরীক্ষা। আমাদের তো দম ফেলার সময়ই থাকত না। ১০টা সাবজেক্ট, সাত দিনেই পরীক্ষা শেষ।’ মাঝে দুই দিন ছুটি ধরে সাত দিনে পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্লাসে যেন ভালোভাবে পড়ালেখা হয়, সেদিকেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শিক্ষাই একমাত্র সম্পদ। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরও আমরা তাই বলেছি। কোনো সম্পত্তি রেখে যেতে পারব না, একটাই সম্পদ— সেটা হচ্ছে শিক্ষা। তারা পড়ালেখা করেছে, আবার চাকরি করেছে। লোন নিয়ে পড়াশোনা করেছে। সেই লোন শোধ দিয়েছে। এরপর আবার ভর্তি হয়েছে। আবার পড়েছে। এভাবে আমার এবং আমার ছোট বোন রেহানার ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করেছে। এভাবেই তারা বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছে। এখনও তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে চলছে।



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব কথা বলার কারণ হচ্ছে, আত্মবিশ্বাসটা থাকতে হবে সবার মধ্যে। নিজের পায়ে দাঁড়াব, নিজেকে গড়ে তুলব, দেশকে গড়ে তুলব— সেই চিন্তা করতে হবে। আর দেশপ্রেম থাকতে হবে। কারণ দেশপ্রেম থাকলে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হবে।’

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি বাবা-মা-শিক্ষক-গুরুজন প্রত্যেককে সম্মান দিয়ে চলার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আজকে যারা এইচএসসি পাস করল, এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। সেখানে ভালোভাবে পড়ালেখা করে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে— এমনটাই প্রত্যাশা করি।’ এ ছাড়াও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবার সুন্দর জীবনও কামনা করেন তিনি।

একই সাথে কৃতকার্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, তারা যেন সন্তানদের বকাঝকা না করেন। তিনি বলেন, অনেক কারণেই হয়তো শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। কিন্তু বকাঝকা করাটা কোনো সমাধান না। বরং কেন সে পাস করতে পারল না, সেটা খুঁজে দেখেন। তার সেই সমস্যাটা দূর করে দেন। পড়াশোনায় সে যেন মনোযোগী হয়, সেই দিকে দৃষ্টি দেন।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ছেলে-মেয়েরা যেন সুন্দরভাবে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকে, সুন্দরভাবে তাদের জীবন গড়ে ওঠে— সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech