ঢাকায় পড়তে চায় না আবরারের ছোট ভাই

  

পিএনএস ডেস্ক : আবরার ফাহাদের একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফায়াজ আর ঢাকায় পড়বে না। শনিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছে ফায়াজ নিজেই।

ফায়াজ বলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল। ও ছিল আমার অভিভাবক। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমন ছিলো যে মা–বাবার কথা তেমন মনেই হতো না। কলেজে (ঢাকা কলেজ) আর যাব না। কোনো ভয় না, আসলে সত্যি কথা যেটা, ঢাকাতে নিয়ে যাওয়া-ভর্তি, সব ছিল ভাইয়ের ইচ্ছায়। ও সব কেয়ার করত। রুমে পানি না থাকলে ভাইই দিত। ও–নেই, সেখানে কী করে থাকব।

ফায়াজ আরো বলে, ভাই ছিল, দুজন ছিলাম। এখন একা। ঢাকা আর না, কুষ্টিয়াতে পড়াশোনা করব। এটাই পরিকল্পনা।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech