ঢাবিতে ৩৪ ছাত্রলীগ নেতার অবৈধ ভর্তি, হট্টগোলে শিক্ষকরা!

  

পিএনএস ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্যকালীন কোর্সে ৩৪ ছাত্রলীগ নেতার অবৈধ ভর্তির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একাডেমিক সভায় হট্টগোলে জড়িয়েছেন শিক্ষকরা। বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষকরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুললে আওয়ামীপন্থী নীল দলের শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে এই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার বিকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভায় ‘একাডেমিক কাউন্সিল’ এই ঘটনা ঘটে। সভায় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নিয়মিত আলোচ্যসূচি শেষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্যকালীন কোর্সে ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকর্মীর অবৈধ ভর্তির বিষয়ে অভিযোগ তোলেন সাদা দলের শিক্ষকরা। এছাড়াও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে এমফিল কোর্সে অবৈধ ভর্তির নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখতে একটা গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবিও জানান তিনি।

অধ্যাপক ওবায়দুলের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই প্রতিবাদ জানান নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক। এসময় নীল দলের শিক্ষকরা এই বক্তব্যকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহার করতে বলেন। সেসময় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কিছু সময়ের জন্য হৈচৈ শুরু হয়। এরপরে সাদা দলের আহবায়কের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন দলের অন্য শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, নীল দলের শিক্ষক ও ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ভর্তির বিষয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন। এ বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের নিয়মিত আলোচ্যসূচির শেষে আমি লিখিত বক্তব্য পেশ করি। তাতে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীসহ ৩৪ জন ছাত্রলীগ নেতার ভূয়া ভর্তির বিষয়ে তুলে ধরেছি। আমার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নীল দলের কিছু শিক্ষক সভায় হৈ চৈ শুরু করে। নীল দলের এসব শিক্ষকরা আমার বক্তব্যকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবি জানান।

তারা বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে এসেছি। উপাচার্য নিজেও বলেছেন, আমরা অন্য কোথাও রাজনীতিতে না পেরে এখানে এসে রাজনীতি করার চেষ্টা করছি।

এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ডাকসু নেতাদের ভর্তির বিষয়ে আমাদের দুয়েকজন সহকর্মী প্রশ্ন তুলেছিলেন। একাডেমিক কাউন্সিল তার চমৎকার ব্যাখা দিয়েছেন। নিয়মনীতির বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সকলে তা গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সভায় কখনও হট্টগোল হয় না। এখানে অসংসদীয় বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে প্রধান করে ভবিষ্যতে ভর্তির নিয়মনীতি নতুন করে প্রণীত হবে। শিক্ষার্থীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতেও পরীক্ষা ছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech