শবে বরাত আজ রাতে

  

পিএনএস: আজ ১৪ শাবান। বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিমান্বিত দিন। আরবিতে একে বলে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। বাংলায় অর্থ সৌভাগ্যের রজনী। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের ভান্ডার খুলে দেন।

মহিমান্বিত এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আতীত জীবনের সব ভুল-ভ্রান্তি, পাপ-তাপের জন্য গভীর অনুশোচনা করে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনো বাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রোজা রাখা ও নফল নামাজ, জিকির-আজকার, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিনম্র প্রার্থনা করেন ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য।

তাছাড়া বর্ষপঞ্জিতে শাবান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। রাসূল (সা:) এ মাসে বেশি-বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমযানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে তিনি এ মাসকে পালন করতেন। শবে বরাতের বরকত, ফযীলত ও মর্যাদা নিয়ে বেশকিছু হাদীসের বর্ণনা প্রচলিত আছে। একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন। আটজন সাহাবীর সূত্রে বিভিন্ন সনদে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, শবে বরাত ফযীলতময় এবং এ রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করে থাকেন। তবে ক্ষমা পাওয়ার শর্ত হলো শিরক ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকা। এ দু'টি বিষয় থেকে যারা মুক্ত থাকবেন তারা কোন অতিরিক্ত আমল ছাড়াই এ রাতের বরকত ও ক্ষমা লাভ করবেন। কিন্তু শিরক ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হতে না পারলে অন্য আমল দিয়ে ঐ রাতের বরকত ও ক্ষমা লাভ করা যাবে না। দু:খের বিষয় হলো, শবেবরাতে আমরা অনেক নফল আমল করলেও ঐ দু'টি শর্ত পূরণের চেষ্টা খুব কম মানুষই করে থাকি।

আমরা অবশ্যই পবিত্র শবেবরাতের বা নিসফে-শাবানের ফযীলত ও ক্ষমা প্রার্থনা করবো। তবে সাথে সাথে আমাদের চেষ্টা করতে হবে শিরক ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকার। কারণ শবেবরাতের শিক্ষা এটাই। আর শবেবরাত উপলক্ষে যারা আলোকসজ্জা, আতসবাজি ও পটকাবাজি চর্চা করেন তারা খুবই ভুল কাজ করেন। কারণ এসব শবে বরাতের আদর্শ ও শিক্ষার পরিপন্থী কাজ। তাই এইসব কাজ থেকে দূরে থাকাই সমীচীন। আল্লাহ আমাদের সকলকে পবিএ এই রজনীর ফজিলত ও বরকত দান করুন। আমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech