করোনা আতঙ্কে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করল শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

  



পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রশাসন কর্তৃক সব বর্ষের জন্য পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনেরও ঘোষণা দেয়।

রোববার শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী রূপ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছেন ৫ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি।

শেকৃবির বিভিন্ন অনুষদের বিভিন্ন লেভেলের ক্লাস প্রতিনিধিরা (সিআর) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে এখনও সংক্রমণ শুরু হয়নি। তবে এখনই সচেতন না হলে ভাইরাসটি মহামারী হওয়ায় ক্যাম্পাসের ঘনবসতি, একসঙ্গে ক্লাস করা, আবাসিক হলগুলোর গণরুম ও ডাইনিং-ক্যান্টিন থেকে এটি খুব সহজেই ছড়িয়ে যেতে পারে, এতে আমরাও সংক্রমিত হতে পারি। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তারা আপাতত সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমরা শিক্ষার্থী স্বার্থসংশ্লিষ্ট সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আমরা ঘোষণা দিচ্ছি।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু বিদেশ ফেরত শিক্ষক কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই তাদের দৈনন্দিন ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

এ সময় তারা স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক আবাসিক হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, দেশের করোনা পরিস্থিতির আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় আপাতত ৩টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘আমরা আপাতত সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মসজিদে তাবলিগ জামাতের জমায়েতে নিয়ন্ত্রণ আরোপসহ ক্যাম্পাসে সব ধরনের গণজমায়েত স্থগিত করা হয়েছে, বিদেশ ফেরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের স্ব-উদ্যোগে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ হওয়া কার্যত সবকিছুই বন্ধ হওয়া। আর করোনা এখন জাতীয় ইস্যু, তাই ক্লাস বন্ধে আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তবে শিক্ষার্থীদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন