নাসিমকে নিয়ে কটূক্তি, শিক্ষক গ্রেফতার

  18-06-2020 11:13AM


পিএনএস ডেস্ক: প্রয়াত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টার থেকে তাকে আটক করা হয়। রাতে তাকে থানা হাজতে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অ্যাডভোকেট তাপস কুমার সাহ বাদী হয়ে কাজী জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়।

দায়েরকৃত মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, কাজী জাহিদুর রহমান গত ১, ২ ও ৫ জুন নিজের ফেসবুক ওয়ালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেন। বাজে ভাষায় কটূক্তি করেন তিনি। সেখানে একটি পোস্টে মোহাম্মদ নাসিমের ছবি ও নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি পোস্টগুলোতে মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করা হয়।

এজহারে বলা হয়, মোহাম্মদ নাসিম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র। তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এমন মিথ্যা তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও সংক্ষুব্ধ।

কাজী জাহিদুর রহমান রাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত তিনি।

জাহিদুর রাবির শিক্ষক হলেও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদে ছিলেন। তবে নাসিমকে কটূক্তির পর গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাহিদুর রহমানকে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়।

নড়াইল জেলা কমিটির সভাপতি সুবাস চন্দ বোস বলেন, জাহিদুর আওয়ামী লীগ করে তাও আমরা জানতাম না। আগের কমিটিতে কীভাবে তিনি হুট করে পদ পেলেন জেলার নেতারা তা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে ছিল। এরপর কমিটি হলেও কোন সভায় আসতেন না।

পিএনএস/আনোয়ার

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন