শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব!

  

পিএনএস ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোই সিদ্ধান্ত নেবে বলে আবারো জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে সীমিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা সচিবালয় থেকে ভার্চুয়াল এই সভায় যোগ দেন।

বৈঠকের পর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। তারা যখন মনে করবে তখনই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক উভয়ই। মহামারির ছয় মাস পর এখনও কওমী মাদ্রাসাগুলো ছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সেই একই শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্ধিত বন্ধের বিষয় নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ১৬ মার্চ থেকে সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা দেয় সরকার। সর্বশেষ ২৭ আগস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে অনলাইনে পাঠদান চলছে।

এদিকে চলতি বছর যে সকল শিক্ষার্থীর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) অংশ নেয়ার কথা, তাদের অভিভাবকরা আরও বেশি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছে যে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ১০ দিন আগে নোটিশ জারি করা হবে।

আলাপকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই মাসের শেষের দিকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।’

তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলেও জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই জনসংযোগ কর্মকর্তা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে স্কুল পরিচালনা করার জন্য একটি দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

জনস্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সম্পর্কে সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসাবে দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করা হয়েছে। স্কুল পুনরায় খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে এটি প্রয়োগ করা হবে।

এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক এবং সিডিসি (যুক্তরাষ্ট্র) ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন