ঝিয়ের কাজ করেও জিপিএ-৫ পেয়েছে জেসমিন

  

পিএনএস,লক্ষ্মীপুর: অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে রামগঞ্জে এবার এসএস সি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে জেসমিন আক্তার।

৪ বছর বয়সে ৫ বোন রেখে মায়ের মৃত্যুর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বড় বোন শাহানাজের মাতৃস্নেহে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত এসে অভাবের তাড়নায় জেসমিনের পড়ালেখা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর জন্য পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মফিজ মাস্টারের ঘরে ঝিয়ের কাজ শুরু করে জেসমিন।
লেখাপড়ার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ এবং আন্তরিকতা প্রকাশ করলে মফিজ মাস্টারের সহযোগিতায় জেসমিন পুনরায় তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া শুরু করে এবং ঘরের কাজ শেষ করে ফাঁকে ফাঁকে কখনো খুব ভোরে উঠে নিজের পড়ালেখা করতো। যার ফলশ্রুতিতে এবার দাখিল পরীক্ষায় রামগঞ্জ উপজেলার সিরন্দী খাতুনে জান্নাত দাখিল মাদরাসা থেকে একমাত্র জিপিএ ৫ পেয়েছে সে।

রামগঞ্জের সমেষপুর মুন্সি বাড়ির সংগ্রামী জেসমিনের পুনর্জাগরণে আবেগে আপ্লুত দরিদ্র বাবা নুরুল আমিনের সঙ্গে এলাকাবাসীও খুশি। ভবিষ্যত ইচ্ছে জানতে ছাইলে সংগ্রামী জেসমিন সংশয় মনে লাজুক ভঙ্গিতে জানালেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়।

স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তিরাই পারেন জেসমিনের সংগ্রামের পূর্ণ সফলতায় অবদান রাখতে।

মফিজ মাস্টার বলেন, ‘মেয়েটি খুব গরীর ঘরের। তার পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য আমার পরিবারে কাজ করে সেই টাকা পায় তা দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেত। এ ব্যাপারে আমি তাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছি। আশা করি সেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের ফলাফল অর্জন করবে। আমর সেই কামনা করি।

জেসমিন আক্তারের বাবা নুরুল আমিন জানান, অর্থের অভাবে তার পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার প্রচণ্ড ইচ্ছা ও অন্যের বাড়ি কাজ করে নিজেই পড়ালেখা চালিয়েছে। তার ফলাফলে আমরা খুবই খুশি।

এ ব্যাপারে মাদরাসা সুপার মাও. মুরাদ হাসান জানান, কাজের চাপে জেসমিন নিয়মিত ক্লাস করতে না পারলেও সে ছিল মেধাবী। তার প্রতি আমাদের আন্তরিকতার কমতি ছিল না। তার পাশে আমাদের পাশাপাশি ধনী ব্যক্তিরা এগিয়ে আসা উচিত।

পিএনএস/মো.সাইফুল্লাহ/মানসুর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech