সন্তানের খাবার যোগাতে ৫০ টাকার জন্য যা করলেন অভিনেত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক: নগ্নতার সম্মান। শুনতে কানে লাগে। অথচ নগ্নতার নান্দনিকতা যুগ যুগ ধরে পূজিত হয়ে এসেছে। নগ্নতা সমাজের কাছে দৃষ্টিকটু। কিন্তু শিল্পীদের কাছে শিল্প, প্রেরণা। সেই নগ্নতা এবার যখন সসম্মানে উচ্চপদ লাভ করছে, স্থির থাকতে পারেননি ন্যুড আর্টিস্টি লক্ষ্মী। দৃঢ়তার সঙ্গে বলে ফেললেন, নগ্নতা শেষমেশ সম্মান পাচ্ছে। আমি খুব খুশি।
আসছে রবি যাদব পরিচালিত ছবি ন্যুড। একটি ন্যুড আর্টিস্টকে নিয়ে ছবির গল্প। এবছর এপ্রিলে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা। এই ছবিরই প্রধান প্রোটাগনিস্ট লক্ষ্মী। তার জীবনই স্টোরি লাইন। কথা প্রসঙ্গে লক্ষ্মী জানিয়েছেন, যখন ছেলের মাত্র ৩ বছর বয়স, তার স্বামী মারা যান। দুচোখে অন্ধকার দেখেন লক্ষ্মী। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। হন্যে হয়ে কাজ খুঁজেছিলেন সেই সময়। ছেলেকে তো বাঁচাতে হবে। সেই কারণেই প্রতিদিন নিজের এক কাকিমাকে কাজের কথা বলতেন তিনি। কিন্তু সেই কাকিমা কোনও উচ্চবাচ্য করতেন না। এরপর লক্ষ্মী নিজে মুম্বইয়ের জেজে স্কুলে যান। সেখানেই তার কাকিমা কাজ করতেন। একদিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়। লক্ষ্মী জানতে পারেন তার কাকিমা সেখানে ন্যুড আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। বলছিলেন লক্ষ্নী।

ওই কাকিমাই তাকে এই জগতের সন্ধান দেন। বলেন, লক্ষ্মী তো কাজ খুঁজছে। কাজ রয়েছে। কিন্তু ন্যুড আর্টিস্টের কাজ। লক্ষ্মী কি পারবে?

কথা শুনে একটু দ্বিধান্বিত হয়েছিলেন লক্ষ্মী। কিন্তু মাথায় তখন ছেলেদের দায়িত্ব। তাই সাতপাঁচ ভেবে কাজটি নিয়েই নেন তিনি। প্রথমদিনের কাজের অভিজ্ঞতা স্বভাবতই ছিল অস্বস্তিকর। হাজার হাজার পুরুষ চোখের মাঝে তাকে দেহ থেকে কাপড় সরাতে হয়েছিল। হতে হয়েছিল সম্পূর্ণ নগ্ন। এমন নির্মম বাস্তব মানতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রফেসররা তার পাশে দাড়িয়েছিলেন সেদিন। বুঝিয়েছিলেন, নগ্নতা একটা আর্ট। এর মধ্যে নান্দনিকতার ছড়াছড়ি। আর আজ সেই ভীরু লক্ষ্মীই বুক চিতিয়ে বলেন, আমার কাজ পৃথিবীর সেরা কাজ।

তার কাজকে অনেকেই ভালো চোখে দেখত না। এখন, যখন এই পেশা স্বীকৃতি পাচ্ছে, খুব খুশি লক্ষ্মী। তিনি এও বলেছেন, যখন তিনি এই পেশায় এসেছিলেন, খুব একটা ভালো পারিশ্রমিক পেতেন না। সম্মানজনক পেশাও ছিল না। কিন্তু তবু তিনি এই পেশায় আসেন, কারণ তাকে তার সন্তানদের পেট চালাতে হত। তাদের পড়াশোনা শেখাতে হত। তারা যেন দারিদ্রতাকে প্রত্যক্ষ না করে, তার জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় বসে থাকার জন্য আগে একজন ন্যুড মডেল পেতেন মাত্র ৫০ টাকা। তবু এখন তা বেড়েছে। দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। কোনও কোনও দিন কাজ থাকত না৷ তখন টাকাও জুটতো না। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, বেশিরভাগ দিনই মডেল হওয়ার জন্য তাদের ডাক পড়ত। লক্ষ্মী বলেছেন, সিটিংয়ের মাঝে খুব কমবার ব্রেক পেতেন তারা। বেশিরভাগ সময়ই তাদের একই পোজিশনে বসে থাকতে হত। তবে নগ্নতার জন্য কখনও তাঁদের অসম্মান করা হয়নি।ছাত্রছাত্রীদের ন্যুড মডেলদের সম্মান করতে শেখানো হত।

আজও তা একচুলও নড়েনি। এখনও শিল্পীদের চোখে তাঁদের কদর রয়েছে। শুধু পার্থক্য এই যে, অনেকেই তাদের এই পেশার জন্য সম্মান দেয় না। কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলাবে। আশাবাদী লক্ষ্মী। অন্তত এমন ছবি মুক্তি পাওয়ার পর দৃষ্টিভঙ্গি যে পালটাবে, তা নিয়ে তার মধ্যে কোনো দ্বিধা নেই।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech