কী ছিল সালমানের সুইসাইডাল নোটে?

  

পিএনএস ডেস্ক : ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সমাপ্তি এখনো হয়নি। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু পুলিশের তদন্তে বারবার উঠে এসেছে আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান। এদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন।

সালমানের আত্মহত্যার পক্ষে এ সময় বেশ কিছু তথ্য উপাত্তের কথাও জানানো হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এর মধ্যে একটি হলো সালমানের সুইসাইডাল নোট!

পিবিআই হেড কোয়ার্টার্সে এ বিষয়ে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘সিআইডি তদন্তকালে সামিরার কাছ থেকে এই সুইসাইডাল নোটটি উদ্ধার করে। সেটি সালমানের প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়।’

সালমান সুইসাইডাল নোটে লিখেন, আমি চৌ. মো. শাহরিয়ার। পিতা কমরুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী। ১৪৬/৫, গ্রীণ রোড ঢাকা #১২১৫ ওরফে সালমান শাহ। এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে- আজ অথবা আজকের পরে যে কোনো দিন। আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’


ব্রিফিংয়ে পিবিআই জানায়, সালমান শাহ’র সঙ্গে শাবনূরের প্রেম ছিল। তাদের অন্তরঙ্গতার বিষয়টি সামিরা সহ্য করতে পারত না। এ নিয়ে সামিরার সঙ্গে মাঝে মাঝেই ঝগড়া হতো সালমানের। মৃত্যুর আগের দিন সালমান শাহ এফডিসিতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করছিলেন। সেখানে হঠাৎ সামিরা এসে উপস্থিত হন। সামিরা সালমান ও শাবনূরকে অন্তরঙ্গভাবে আবিষ্কার করেন। এরপর সামিরা রাগ করে চলে যান। সামিরা চলে গেলে সালমানও বেরিয়ে যান ডাবিং বাদ দিয়ে।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে শাবনূরকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন সালমান। এমনকি সামিরা ও শাবনূরকে নিয়েই সংসার করতে চেয়েছিলেন এই চিত্রনায়ক। কিন্তু তাতে রাজি হননি সামিরা। অপরদিকে সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল সালমানের সংসারে। মা নীলা চৌধুরীকে প্রচণ্ড ভালোবাসলেও স্ত্রী সামিরার সঙ্গে নীলার সম্পর্ক ভালো ছিল না। সম্পর্কের এই জটিল রসায়নও পোড়াতে সালমানকে। সালমানের মামার বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, মৃত্যুর আগের রাতে সালমান বলেছিলেন তিনি সামিরাকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন জীবন শুরু করবেন। এসব নানাবিধ কারণে সালমানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এদিকে পিবিআইয়ের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সালমানের পরিবার। দেশ রূপান্তরকে সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘পিবিআই যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। শিগগিরই আমরা পুনরায় তদন্ত করার জন্য আবেদন জানাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সালমানের মা নীলা চৌধুরী অসুস্থ। লন্ডনে আছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা বলে আইনজীবীর মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নিব আমরা।’

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয় পারিবারিক কলহের কারণেই আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান। এ তথ্য জানান পিবিআই প্রধান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের শেষ দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নতুন করে সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তভার দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি।

অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এরপর বেশ কয়েকবার একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলেও সালমানের পরিবার তাতে নারাজি আবেদন করে পুনঃতদন্ত চায়।

প্রায় ১৮ বছর আগের এই মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা তা নির্ধারণে গত বছরের জানুয়ারি মাসে মামলাটি আবারও আদালতে ওঠে। তখন মামলাটি তদন্তে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয় আদালত।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন