ধর্ম কিংবা বিদ্যমান আইনে মরণোত্তর অঙ্গ দানে বাধা নেই

  



পিএনএস ডেস্ক: ডোনার (দাতা) সঙ্কটের কারণে দেশে প্রতিবছর ৪০ হাজার কিডনি রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। তাদের মধ্যে মাত্র শতকরা ২০ ভাগ চিকিৎসা পেলেও অবশিষ্ট ৮০ ভাগ সেবার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। একইভাবে হাজার হাজার মানুষ লিভার, হার্ট, ফুসফুস, অগ্নাশয় ইত্যাদি রোগে মারা যাচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বাংলাদেশ, কিডনি ফাউন্ডেশন এবং কোরিয়া ইউনিভার্সিটি আনাম হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে ‘মরণোত্তর অঙ্গ দান ও সংযোজন’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব তথ্য জানান। কোরিয়ান সোসাইটি ফর ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন এবং বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন সম্মেলনে সহযোগিতা করে।

বক্তারা বলেন, উন্নত বিশ্বে কিডনি বিকল ৬০-৭০ ভাগের বেশি মানুষ মরণোত্তর অঙ্গ দান প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিয়ে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে। ধর্ম কিংবা বিদ্যমান আইনে মরনোত্তর অঙ্গ দানে কোনো ধরনের বাধা না থাকলেও এখনও দেশে এটা শুরুই করা যায়নি। এ দেশে এই চিকিৎসা চালু হলে অকালে হারাতে হবে না এতগুলো জীবন।

কিডনি ফাউন্ডেশন ও সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, যারা নিজেদের কিডনি দান করেছেন এবং যারা গ্রহণ করেছেন তারা একেকটা ইতিহাস। মরণোত্তর অঙ্গ দান অনেক কঠিন একটা কাজ হলেও অসম্ভব কিছু নয়। তাছাড়া এটা শুধু কিডনি ফাউন্ডেশনের একার কাজও নয়। এজন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, মানুষের ইমোশনকে (আবেগকে) জাগিয়ে তুলতে হবে।

অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, দিন দিন কিডনি বিকল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জীবিত কিডনি দাতার সঙ্কট প্রকট বলে কিডনি বিকল রোগীরা প্রতিস্থাপন করতে না পেরে অকালে মারা যাচ্ছে। এসব বিষয় চিন্তা করে গত বছর থেকে সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন, কিডনি ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন মরণোত্তর কিডনি ও লিভার দানের উদ্যোগ গ্রহণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু সচেতনতা, ধর্মীয় অজ্ঞতা এবং অনাগ্রহের কারণে সেটি ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি। এরপরও সাফল্যের আশায় সম্মিলিতভাবে মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা রয়েলের সভাপতি মো. জাহীদ হোসেন, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর এম. খাইরুল আলম, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর লায়ন শহিদুল ইসলাম, ইনার হুইল, বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মহসিনা রেজা প্রমুখ।

আরও বক্তব্য রাখেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ ওয়াহাব, ব্রি. জে. (অব.). অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম মুহিবুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অর্গান ডোনার কার্ড চালু করা হয় এবং কিডনি সংযোজন করে বেঁচে আছেন এমন কয়েকজনকে সম্মাননা দেয়া হয়।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন