যে ৪ কারণে ট্রাম্প-কিম বৈঠক হবে না!

  

পিএনএস ডেস্ক: চলতি বছরের ১২ জুন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে তার আগেই আলোচিত এই বৈঠক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে স্বয়ং ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই বৈঠকটি না হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। সম্মেলনের আগে কিম যদি পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করার শর্ত পূরণ না করে তাহলে নির্ধারিত এই বৈঠক আরও পেছাতে পারে বলে ট্রাম্পের বক্তব্য।

দুদিন আগে হোয়াইট হাউজে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন।

তবে নাছোড়বান্দা উত্তর কোরিয়াও তাদের অবস্থানে অটল। কিম প্রশাসনের বক্তব্য হচ্ছে- পরমাণু অস্ত্র বাতিল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর বিরতিহীনভাবে চাপ দিতে থাকে তাহলে তারা বৈঠক বাতিল করে দেবে।

ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার আলোচিত এই বৈঠকটি না হওয়ার নেপথ্যে চারটি কারণ দর্শিয়েছে বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কারণ চারটি উল্লেখ করেন।

১. বৈঠক বাতিলের ক্ষেত্রে জন বোল্টনের করা কিছু মন্তব্যকে সামনে এনে আলী রীয়াজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

"তিনি যেভাবে একতরফাভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কথা বলেছেন এবং লিবিয়া মডেলের কথা উল্লেখ করেছেন সেটা উত্তর কোরিয়ার জন্যে একটা বড় রকমের ভীতি তৈরি করেছে," বলেন মি. রীয়াজ।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপে ২০০৩ সালে লিবিয়া তার গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র পরিহারের কথা ঘোষণা করেছিল। লিবিয়ার উপর থেকে তখন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিবিয়ার সাথে যুদ্ধে কর্নেল গাদ্দাফি নিহত হন।

২. যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়াকে দ্বিতীয় কারণ বলা হচ্ছে। আলী রীয়াজের ভাষ্য, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া অলিম্পিকের কারণে পেছানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া চাইছিল এই মহড়া বাতিল করা হোক। কিন্তু সেটা বাতিল না করে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।"

৩. তিন নম্বর কারণ হচ্ছে, "চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যে বাণিজ্য লড়াই প্রায় শুরু হতে যাচ্ছে বা হওয়ার মতো পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে সেটাও এর পেছনে পরোক্ষভাবে কাজ করেছে' বলে মনে করেন আলী রীয়াজ।

"চীন যেহেতু উত্তর কোরিয়ার বড় সমর্থক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যখন এক ধরনের টানাপড়েন চলছে, এরকম একটা পরিস্থিতিতে চীন সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উপর একটা চাপ তৈরি করতে চাইছে," বলেন তিনি।

৪. আর চতুর্থ হচ্ছে, আলী রীয়াজ মনে করেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যতোটা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়তো তারচেয়েও বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন।

আলী রিয়াজ বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বর্তমানে দুটো ধারণা এখন স্পষ্ট। একটি হচ্ছে জন বোল্টনের ধারণা। তিনি মনে করেন এই আলোচনা সফল হবে না। ফলে যুদ্ধের জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

আর অন্যটি হচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ধারণা। তিনি একাধিকবার উত্তর কোরিয়াতে গেছেন। অতীতে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বারবার সামরিক অভিযানের কথা বললেও এখন তিনি চাইছেন অন্তত আলোচনাটা হোক।

তিনি বলেন, "সম্ভবত হোয়াইট হাউজের কথা বিবেচনা করেই তিনি অনেক দূর পর্যন্ত যেতে চান। এই পার্থক্যের কারণে বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। এবং এই টানাপোড়েনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করতে চায় পিয়ং ইয়ং।"

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech